দুদক চেয়ারম্যানের ওপর হাইকোর্টের রুল

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের ওপর রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে মেয়াদ উত্তীর্ণের পরও কোন কর্তৃত্ববলে তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত আছেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গত ২ মে থেকে আজ পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকে অবৈধ ঘোষণা এবং এই সময় নেয়া বেতনভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দানের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুদক চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও দুদক সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৩ জুন রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও গোলাম রহমানের দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ। তারপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। শুনানিতে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোলাম রহমানকে দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগ দেন। ওই বছরের ২ মে থেকে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। দুদক আইনের ৬(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনারদের নিয়োগের তারিখ হতে চার বছর মেয়াদের জন্য স্ব-স্ব পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। সেই হিসেবে গোলাম রহমানের মেয়াদ গত পহেলা মে চার বছর পূর্ণ হয়েছে। এই চার বছর পূর্ণ হওয়ার পরও তিনি দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এই দায়িত্ব পালন বেআইনি ও অবৈধ। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদের দিন গণনা কিভাবে হবে তা জানতে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট দুদকের সচিব মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে আইনগত মতামত চান। পরবর্তীতে ওই বছরের ২১ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে মতামত দেয়া হয়, ২০০৯ সালের ২৪ জুন তার দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে সময়কাল গণনা করা হবে। কিন্তু দুদক আইনেই বলা হয়েছে যে, নিয়োগ দেয়ার দিন থেকে এ মেয়াদকাল শুরু হবে। ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বলেন, একটি প্রজ্ঞাপনের ক্ষমতাবলে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রহমান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শুনানিকালে দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং সরকার পক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আলামিন সরকার উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত গত ৫ জুন অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ দুদক চেয়ারম্যানকে এক লিগ্যাল নোটিস দেন।