সন্ত্রাস বিরোধী বিল একটি কালো আইন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৫১
গতকাল মঙ্গলবার পাস হওয়া সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০১৩ সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিরোধী দলকে নতুন রূপে দমন করার জন্য এ কালো আইন করার হয়েছে। সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০১৩ পাসের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, এতে সংবাদ প্রবাহের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের চেয়েও জঘন্য বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য এমকে আনোয়ার। তবে এই আইনের বিরুদ্ধে উচ্চাদালতে যাবেন কি না অথবা ক্ষমতায় গেলে এই আইন বাতিল করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজ বিরতির পর সংসদ ভবনের বাইরে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতারা এ কথা বলেন। তারা বলেন, সরকার বিরোধী যে আন্দোলন চলছে তার গতি ব্যাহত করতে এই বিল পাস করা হয়েছে। এমন সংশোধনের ফলে সংঘাতের রাজনীতি আরও তীব্রতর হবে। তারা বলেন, নতুন এ আইন দেশ ও জাতির জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। জনগণ এ আইন প্রত্যাখ্যান করবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াতের আনম শামসুল ইসলাম, সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, আশিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মণি প্রমুখ।
মওদুদ বলেন, সরকার তার মেয়াদের শেষ সময়ে এসে বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে আইনটিতে সংশোধন এনেছে। এই সংশোধনীতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের লংঘন। এটি একটি কালো আইন। এই আইনের অপপ্রয়োগ করার জন্য পুলিশ ও বিচার বিভাগকে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তাই এটিকে সংবিধান পরিপন্থি মনে করছি।
সংশোধিত আইনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, সংশোধনীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ধারা-১৯ সংশোধন করে সংগঠন শব্দের সঙ্গে ব্যক্তি ও সত্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন সাধারণ নাগরিককে এই আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করা হবে। এছাড়া এ আইনে সংশোধন এনে অপরাধ জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আদালতও সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ আমলে নেবেন।
তিনি বলেন, ২৩ নম্বর ধারায় সংশোধন এনে ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই তার সম্পত্তি জব্দ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালতের পূর্ব অনুমতির বিধান তুলে দেয়া হয়েছে। তাই বলা চলে- আইনটি সংশোধন করে পুলিশকে স্বৈরাচারী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তাড়াহুড়া করে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আইনটি পাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।