মির্জাপুরে ৮৫ স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৫২
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। অর্ধ লক্ষাধিক শিশু-কিশোর ঐ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ গ্রহণ করছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয় ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ বিদ্যালয়গুলো এখন বন্ধ রয়েছে। ভবন ও শ্রেণী কক্ষের অভাবে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলে খোলা আকাশের নিচে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কার প্রাপ্ত শিশুদেরও পাঠ দেয়া হচ্ছে গাছের নিচে। পৌরসভার ভেতরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই বেহাল অবস্থা। গ্রামের স্কুলগুলোর আরও বেহাল দশা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। সোমবার মির্জাপুর পৌরসভা এবং উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ঘুরে বিদ্যালয়গুলোর করুণ চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বিভিন্ন অর্থবছরে স্কুল ভবন নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ভবনগুলোর দেয়াল ও ছাদ ফেটে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা এলজিআরডি অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের ৬৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয় ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়, সিট মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গ্রামাটিয়া কে আর এস ইন্সটিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়, বংশাই উচ্চ বিদ্যালয়, গায়রাবেতিল উচ্চ বিদ্যালয়, বরাটি উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, জামুর্কি উচ্চ বিদ্যালয়, সাটিয়াচড়া শিবনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহেড়া আনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। ইতিমধ্যে অনেক বিদ্যালয়ের ভবনে-দেয়ালে ফাটল, ছাদ দিয়ে পানি পড়া ও প্লাস্টার খসে পড়ছে বলে শিক্ষক, এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছে। শত শত ছাত্রছাত্রী দরজা জানালা বিহীন টিনের ঘরের মেঝেতে এবং খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করছে।
উপজেলার ৮০ নং কুইচতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিরঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহনতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুপবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুষ্টকামুরী আদর্শ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুল্লা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে ভবনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। উপজেলার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিরই বেহাল অবস্থা।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা মাহফুজা বেগম বলেন, মির্জাপুরে যে সব জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলো দ্রুত নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শামসুল আলম খান বলেন, ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। যদি কোন বিদ্যালয় নির্মাণের অনিয়ম দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে এই সরকারের আমলে শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ বিদ্যালয় ভবনের উন্নয়ন করা হচ্ছে।