ভুল পথের হাতছানি

আমাদের শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের অনেকেই এখন ভুল পথে হাঁটছেন। আর এতে করে নিজের ক্যারিয়ারের সাথে সাথে মিডিয়ার অনেকের ভবিষ্যতও অন্ধকার করছেন। তারা হয়তো ভুলে যান যে, শোবিজের তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহটা একটু বেশি। প্রিয় তারকার জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়ে কেউ কেউ তার যাপিত জীবনের অনেক কিছুই গ্রহণ করে। সেটা ভালো কি মন্দ তা ভেবে দেখে না। তারকার লাইফস্টাইলের মন্দ কোনো দিকে নিজেকে ভাসাতে গিয়ে তিনিও হয়তো ধ্বংস হয়ে যান। মিডিয়াতে তারকাদের ভুল পথের হাতছানির নানা গল্প নিয়ে আমাদের এবারের মূলফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ‘নেশার আগুন জ্বেলে/তুমি কে শোনো মোর গান/এসো প্রাণের প্রদীপ জ্বালি তোমার তরে/এ আমার আহ্বান—আশি দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড নোভার সেই সময়কার জনপ্রিয় একটি গানের শীর্ষ লাইন দুটি। এই গানের মধ্যে ফুটে উঠেছে ওই সময় তরুণদের ভুল পথে হেঁটে যাওয়ার ছবি। তখন সংগীতাঙ্গনের তারকারা ও অন্য তরুণরা যেভাবে ভুল পথের হাতছানিতে গা ভাসিয়েছিল, তা যেন স্বাভাবিক বিষয় ছিল। তারকা খ্যাতি কিংবা সংগীতের অধ্যায়ে নিজেকে জড়ানোর সাথে সাথে ভুল পথের মোহে আসক্ত হতেন দীর্ঘ সময়ের জন্য। পরবর্তীকালে এর থেকে মুক্ত হয়ে এলেও দেখা গেছে সৃষ্টিশীলতার পথে নেশা বা ভুল পথের হাতছানির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। এক. আশির দশকের শুরুর দিকে যখন ব্যান্ড সংগীত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে তখন ‘শকিং ব্লু’ নামে প্রথম যে ব্যান্ডটির যাত্রা তার ভোকালিস্ট জুয়েল বাংলাদেশে ভুল পথের পথিক হিসেবে শীর্ষস্থানে ছিলেন। নেশার ভয়াল থাবায় খুব অল্প সময়েই নিজের জীবন বিসর্জন দেন এই শিল্পী। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে হ্যাপি আকন্দকে, যার গান এখনও মানুষের কানে বাজে, তার হঠাত্ অকাল প্রয়াণ। তখন ব্যান্ডশিল্পীদের মনে এক প্রচ্ছন্ন আবেগ কাজ করত নিজেকে এই ভুল পথে জড়িয়ে ফেলার। পরে জনপ্রিয়তার ধারায় অনেকেই ফিরেছেন ভুল পথের হাতছানির মায়া কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আর রেখেছেন সফলতার স্বাক্ষর। এমনি একজন তারকা উপমহাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমস। একসময় জেমস ও তার দল ফিলিংস সংগীতাঙ্গনে শীর্ষ অবস্থান তৈরি করলেও তাদের এক ধরনের পরিচিতি ছিল ভুল পথের পরিব্রাজক হিসেবে। পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করেছেন জেমস। আর শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য ভালো গান। কণ্ঠশিল্পী আগুনও ভুল পথের হাতছানির মোহে পড়লেও কিছুদিন বাদেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। শুধু নেতিবাচক কথা বললেই হবে না। ইতিবাচক কথাও বলতে চাই। দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিডব্যাক ও মাইলস সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করেছে। সময়ের ধারাবাহিকতায় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আরেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হাসান নিজের সুন্দর বলয়ে থাকলেও পরে ভুল পথের ডাকেই সাড়া দিয়েছেন। এভাবেই দেশের ব্যান্ড সংগীতের নক্ষত্র পতনের রাত দীর্ঘ হতে থাকে নেতিবাচক হাতছানিতে। পরে যারা ব্যক্তি পর্যায়ে সলো অ্যালবাম নিয়ে খ্যাতিমান হয়েছেন তারাও কেউ কেউ আসক্তির স্রোতে ডুবে গেছেন। যদিও নিমজ্জনের ইতিহাসের দায় পুরোটা তার নয়। আবার অনেক গীতিকার ও সুরকার অভিমানে আসক্তি নিয়ে হারিয়ে গেছেন নিজস্ব ট্র্যাক থেকে। দুই. নব্বইয়ের শেষ দিকে এসে মিউজিক ইন্ড্রাস্টি যখন আস্তে আস্তে ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে তখন বিভিন্ন চ্যানেলে দাপটের সাথে টিভি নাটকের শিল্পীরা একটি আলাদা আসন গড়ে তোলে। এই তারকারা নিয়মিত হাইলাইট হতে থাকেন মিডিয়ায়। আর এক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তরুণরাই। একসময়ের জনপ্রিয় টিভি তারকা শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। সুন্দর ক্যারিয়ার ছেড়ে হঠাত্ করে ভুল পথেই হাঁটলেন। বর্তমানে তিনি এতটাই বেপথু হয়েছেন যে, বাইরে বেরোনোর বিষয়ে তার পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জানা গেছে, মাঝে মাঝে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও নেওয়া হচ্ছে এ অভিনেত্রীকে। এ অবস্থায় আপাতত অভিনয় থেকে বিদায়ই নিয়েছেন প্রতিভাবান এ অভিনেত্রী। এর মধ্যে অনেক নির্মাতা নাটক-চলচ্চিত্রের অফার নিয়ে তার বাসায় হাজির হলেও অভিনয়ের অনুমতি মিলছে না পরিবার থেকে। কারণ, তার পরিবার মনে করছে গ্ল্যামার মিডিয়ার কারণেই তিন্নির আজ এই করুণ পরিণতি। তিন্নির পারিবারিক সূত্র জানায়, হিল্লোলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের পর থেকে বেশির ভাগ সময়ই তিন্নির কেটেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। সেখান থেকে খানিক সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও দু’দিন বাদেই উচ্ছৃঙ্খলতা এবং অনিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার কারণে তাকে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে নিরাময় কেন্দ্রেই। এমন ভাবে হারিয়ে গেছে, এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল পল্লব, রাহাসহ আরও অনেকে। সম্প্রতি একই পদঙ্ক অনুসরণ করেছেন জনপ্রিয় মডেল সারিকা, লাক্সতারকা মেহজাবীন, মাশিয়াত, মডেল ইমি, রুমা, সুমনসহ আরও অনেকে। যারা জনপ্রিয়তার ভুল অনুবাদে ব্যস্ত হয়ে হেঁটে চলেছেন নেশার নীল পথে। অভিনয়শিল্পীদের এমন অসচেতনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিচালক-প্রযোজকরা। শুধু তাই নয়, অসংখ্য ভক্ত যারা প্রিয়তারকাদের অনুসরণ করেন তারাও আক্রান্ত হন এই ব্যাধিতে। তিন. চলচ্চিত্রের কয়েকজন নায়িকাসহ শোবিজের অন্তত এক ডজন গ্ল্যামার গার্ল ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। ভয়াবহ এই নেশায় আসক্তদের তালিকায় চলচ্চিত্রের নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালকদের নামও রয়েছে। হালের আলোচিত একাধিক মডেল কাম অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন বলে জানা গেছে। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে গ্রেফতার হওয়া চিত্রনায়িকা শানু ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত শোবিজের অনেকেরই নাম ফাঁস করে দিয়েছিলেন। ওই সময় প্রকাশ হয় ইয়াবা ব্যবসার অন্তরালে থাকা নানা কাহিনী। অন্যদিকে ইয়াবা, হেরোইন ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার হওয়া মডেল পায়েল ও রুবিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পায়েল ফাঁস করে দেন অন্ধকার জগতের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। শোবিজের কারা ইয়াবা গ্রাহক—সে কথা যেমন বলেছেন, তেমনি নিজের অন্ধকার জীবনের কথাও বলেছিলেন খোলামেলাভাবে। ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত চলচ্চিত্রের অশ্লীল নায়িকা হিসেবে পরিচিত ময়ূরী, কেয়া, একা ও ঊর্মির নাম প্রকাশ করে শানু বলেছিলেন, ‘চিত্রনায়ক আলেকজান্ডার বো, মেহেদীসহ কয়েকজন পরিচালক-প্রযোজক তার জলসাঘরের নিয়মিত অতিথি ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া যুবক জামালকে শানু তার স্বামী বলে পরিচয় দিলেও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এক ফ্ল্যাটে বাস করলেও জামাল তার স্বামী নন। তারা দুজনে লিভ টুগেদার করতেন। একই সঙ্গে নানা কৌশলে ব্যবসায়ীদের শানুর ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতেন। এরপর শানুর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে শানু জানিয়েছেন, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয় এসব জলসাঘর। সেখানে ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি চলে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব জলসাঘর আলো করে রাখেন শোবিজের নায়িকা ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির কথিত ছাত্রীরা। তিন. মডেল নিকিতার কথা এখনও অনেকের মনে আছে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ অভিযানে অন্ধকার জগত্ থেকে প্রকাশ্যে মুখ দেখাতে বাধ্য হয়েছিলেন যে কথিত ‘মডেল’ নিকিতা। নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসার কারণেই তার নামের সাথে যুক্ত হয়েছিল ‘ইয়াবা-সুন্দরী’র তকমা। ওই সময় রাজধানীর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব)-এর একটি টিম জান্নাতুল ফেরদৌস নিকিতা (২৬) এবং তার সহযোগী, হোটেল পূর্বাণীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান জয়নালসহ আরও কয়েকজনকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করে। এক পর্যায়ে আটক করা হয় নিকিতার বাবা আবদুন নূর, মা সালেহা বেগম ও ভাই মইনুদ্দিনকেও। নিকিতার একটি গোপন ডায়েরিসহ আরও কিছু আলামতও জব্দ করে র্যাব। তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তরের পর আদালতে হাজির করা হয় এবং ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন (সিএমএম) ম্যাজিস্ট্রেট প্রাথমিকভাবে নিকিতাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং জয়নালকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। তবে শেষাবধি রিমান্ড থেকে রেহাই পাননি নিকিতাও। ১০ নভেম্বর শুধু নিকিতা নন, তার বাবা-মা ও ভাইকেও একযোগে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। বেশ কিছু দিন অন্ধকার কারা-প্রকোষ্ঠে দিন-রাত কাটিয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে সেই নিকিতাও একদিন ঠিকই আবার বাইরের আলোতে ফিরে আসেন। জেল তাকে ছাড়লেও সেই নিকিতা ইয়াবাকে ছাড়তে পেরেছিলেন কিনা, কিংবা ইয়াবা তাকে ছাড়তে পেরেছিল কিনা, সেই তথ্যও রয়ে গেছে অজানা। এরপর ২০১২ সালে ইয়াবা-সুন্দরীদের সর্বশেষ সংস্করণ নায়িকা সিলভিয়া ওরফে চাঁদনী একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর ৪৩ দিন জেল খেটে জামিনে ছাড়া পান। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের কলাতলিস্থ হোটেল বে-ভিউ থেকে তার স্বামী কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট পার্কের চেয়ারম্যান, চলচ্চিত্র প্রযোজক জিএম সরওয়ারসহ আরও দু’জন সঙ্গীসহ র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। একই মাসে, চাঁদনী আটক হওয়ার মাত্র দু’দিন পরে ডিসেম্বরের ২২ তারিখে ঢাকাই ফিল্মের আরেক পড়তি নায়িকা কেয়াকে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আটক করে পুলিশ। চার. শুধু আমাদের দেশেই নয়। হলিউড বা বলিউডেও একই অবস্থা তারকাদের। যারা ভুল পথের হাতছানিতে ডুবে যান। একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার। কেন এমন? মেরিলিন মনরো, এলভিস প্রেসলি, জিম মরিসন, ব্রিজেট অ্যান্ডারসন থেকে হালের অ্যামি ওয়াইনহাউস, লিন্ডসে লোহান, হুইটনি হিউস্টনের মতো বড় তারকাদের জীবন অকালে শেষ হয়ে যাচ্ছে শুধু মাদকের কারণে। মাদকাসক্তি বা ভুল পথের হাতছানি। মধুর ভান্ডরকরের ‘ফ্যাশন’ ছবির একটি দৃশ্যেও তো দেখা গিয়েছিল, মাদকাসক্ত এক জনপ্রিয় মডেল মারা গিয়েছেন রাস্তার ধারে, সম্পূর্ণ একলা। মাদকের মারণ-নেশার কবলে আক্রান্ত বলিউডও। সঞ্জয় দত্ত, ফরদিন খান, মনীষা কৈরালা মাদকাসক্ত তারকার সংখ্যা তো কম নয়। কিন্তু কেন মাদকের আশ্রয় নিতে হয় বা হচ্ছে তারকাদের? বিশেষজ্ঞদের মতে, সব রকম মাদকের মধ্যেই অন্তত একটি বৈশিষ্ট্য একদম এক। তা হলো, মাদক সেবনকারীকে অল্প ক্ষণের জন্য হলেও বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্বভাবতই বাস্তব জীবনের প্রতি যাদের নেতিবাচক মনোভাব, তাদেরই মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রশ্নটা এখানেই। সাফল্য, অর্থ, খ্যাতি সব থাকা সত্ত্বেও জীবনের প্রতি এই নেতিবাচক মনোভাব কেন গড়ে ওঠে তারকাদের? এই ব্যাপারে মনোবিদ মহল অবশ্য দ্বিধাবিভক্ত। তাদের একাংশের মতে, সচেতনতার অভাব নয়। মূলত অতিরিক্ত ‘চাপ’ কাটাতেই মাদক নিতে শুরু করেন এরা। তারপর কখন যে ধীরে ধীরে তা নেশায় পরিণত হয়, জানতেও পারেন না। আবার কোনো কোনো মনোবিশেষজ্ঞ দাবি করেন, মানসিক চাপ ছাড়াও সুষ্ঠু পারিবারিক সম্পর্কের অভাবই তারকাদের নিভিয়ে দেয়। তাদের মতে, সব তারকাই যে অসচেতনভাবে মাদকাসক্ত তা নয়। কারও কারও কাছে ‘স্ট্রেসের’ সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সহজ উপায় মাদকসেবন। তাতে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য বাস্তব সমস্যা ভুলে থাকা যায়। বিশেষত পরিবারের সঙ্গে যেসব তারকার সম্পর্ক তিক্ত, তাদের কাছে ‘চাপ’ কাটানোর একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই মাদক। শুধু তা-ই নয়, অনেক সময় শারীরিক যন্ত্রণা কমাতে বা অনিদ্রার জন্য চিকিত্সকের পরামর্শে যে ধরনের ওষুধ খেতে হয় তার মধ্যেও খুব স্বল্প পরিমাণে মাদক মেশানো থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে এর প্রতিও এক ধরনের আসক্তি তৈরি হতে পারে এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে হঠাত্ মৃত্যুও অসম্ভব নয়। মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পিছনে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের পরিমাণকেই এখনও অবধি দায়ী করা হয়েছে। তারকাদের মাদকাসক্তি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য রকম ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, সৃজনশীল মানুষের মধ্যে নিয়ম-বিরোধিতা, আবেগ, সহজে উত্তেজিত হয়ে পড়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে। মাদকের নেশা থেকে বেরোনোর চেয়ে বেশি কার্যকর উপায় হলো, নেশাকে সমাধান মনে না করা। আর তা-ই, তারকাদের প্রথম থেকেই মাদকের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেস মোকাবিলায় প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে পারেন। আর মাদকের দুনিয়ায় নিজেকে জড়ানো নয়। চাই, সুস্থ সুন্দর জীবনের জয়গান।