মৌসুমী হাওয়ায় সজল
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ১৯:০০
সম্প্রতি নির্মিত হলো ঈদের জন্য বিশেষ টেলিফিল্ম ‘আইসক্রিম ও অনুভূতির গল্প’। পার্থ সরকারের পরিচালনায় এই টেলিফিল্মে চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও অভিনেতা সজল জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন। এই জুটির অভিনয় ভাবনা ও নাটক নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপুু
মন ঢাকার মেয়ে। ট্রেন মিস করে বসে আছে একটা রেল স্টেশনে। আয়ান ছবি তুলতে তুলতে হঠাত্ ফ্রেমে আবিষ্কার করে মনকে। অনুমতি না নিয়েই কয়েকটা ছবি তুলে ফেলে। টের পেয়ে রিঅ্যাক্ট করে মন। রাগারাগি করে সেখান থেকে চলে যায়। অনেকক্ষণ পর অন্য এক জায়গায় বসলে সেখানেও দেখে আয়ানকে। মন ভাবে আয়ান বুঝি তার পিছু নিচ্ছে। যেদিকেই তাকায় সেদিকেই মন দেখে আয়ান তার পিছু নিচ্ছে। একেকবার একেক পোশাকে। কখনও পান বিক্রেতা, কখনও ঝাড়ুদার, কখনও ট্রেনের টিটি, কখনও চাওয়ালা, কখনও কুলি, কখনও সেলসম্যান। আসলে আয়ানের কাজটাই এমন, গুনে গুনে ছবি তোলা। স্থানীয় এক চা দোকানদার এ ব্যাপারে সাক্ষী দিলে মন বিশ্বাস করে। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের শুরু হয়। কথা হয় আয়ান মনকে সারা শহর ঘুরিয়ে দেখাবে। শর্ত হলো আয়ান ঢাকা গেলে তখন মনও আয়ানকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আয়ান সারা চট্টগ্রাম শহর ঘুরে বেড়ায় তারা। বাইকের পেছনে মন। জিইউসি মোড়, পতেঙ্গা বিচ, ছোটখাটো পাহাড়, ওয়ার সিমেট্রি ইত্যাদি নানা জায়গায় নিয়ে যায়। মনকে খুবই আকর্ষণীয়ভাবে আইসক্রিম খাওয়া শেখায় আয়ান। এ তো শুধু খাওয়া নয়, একটা শিল্প! এখানে ওখানে দুইজন সারাদিন ঘুরে বেড়ায় ছন্নছাড়ার মতো। মনকে ছবি তোলা শেখায়। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা। সন্ধ্যার দিকে ঘটে আরেক ঘটনা। রাস্তায় মন একা দাঁড়িয়ে ছিল। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল এক পতিতা। এমন সময় পুলিশের এক ভ্যান আসে। পতিতাসহ মনকেও তুলে নিয়ে যায় থানায়। আয়ান মনকে বাঁচাতে গেলে ওকেও দালাল সন্দেহে ধরে নিয়ে যায়। মহা ফাপরে পড়ে মন ও আয়ান। মন অস্থির হয়ে কান্নাকাটি আরম্ভ করে। আয়ান শুরুতে কিছু করে না। মনকে অস্থির হতে দেয়। সেলের ভেতর দুজনের কিছু অদ্ভুত সময় কাটে। থানার ওসি আসলে দেখা যায় আয়ানকে খুব ভালোমতো চেনে। ওসি সাহেব ওদেরকে ছেড়ে দেয়। আয়ানের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ হয় মন। দুজনে মিলে স্টেশনে যায়। আয়ানের খুব মন খারাপ হয় মন চলে যাবে বলে। মনকে থেকে যেতে বলে ওর শহরে। মন হাসে। কথা দেয় আবার আসবে। ফোন নম্বর দেয়। ঢাকা গেলে যেন অবশ্যই ওর সঙ্গে দেখা করে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় আরেক গল্প বলে মন। ফিয়ান্সেকে সারপ্রাইজ দিতে হুট করে এসেছিল এই শহরে। এসে নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে যায়। হাসানের ফ্লাটে দেখে অন্য এক মেয়ে তুলিকে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাসান ও তুলি দুর্ঘটনাবশত মনের হাতে খুন হয়। আয়ান মনকে সান্ব্তনা দেয়। ইচ্ছে করে তো আর খুনটা করেনি। বলে যত যাই হোক পাশে থাকবে। এক সময় ট্রেন আসে। চলে যায় মন। আয়ান মনকে বুলতে পারে না। মন চলে যাওয়ার পর অনেক আগ্রহ নিয়ে ল্যাপটপে ছবিগুলো ডাউনলোড করে। সমস্যা হলো, মনের ছবিগুলো ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে খুঁজে পাচ্ছে না। বলা ভালো মনকে পাচ্ছে না। আয়ানের মাথা খারাপ হয়ে যায়। মনের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। স্টেশনে বসেই মনের জন্য অপেক্ষা করে কয়েক বছর। এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘আইসক্রিম ও অনুভূতির গল্প’। এটি রচনা করেছেন রাজীব হাসান ও পার্থ সরকার। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘এর গল্পটা অনেক সুন্দর। আর সজলও এতে অনেক ভালো অভিনয় করেছে। আশা করছি নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ সজল বলেন, ‘এর আগেও আমি মৌসুমী আপুর সাথে অভিনয় করেছি। এখানে আমার চরিত্রটি অনেক মজার। সব মিলিয়ে এই নাটকের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। পরিচালক পার্থ সরকার বলেন, ‘আমার নাটকের গল্পটি কিছুটা হলেও ভিন্ন ধরনের। আর এ রকম গল্প নিয়ে কাজ করতে কিছুটা কষ্ট করতে হয়। আমি চেষ্টা করেছি আমার পুরো অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে। এখন নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগলেই আমার শ্রম সার্থক।’ উল্লেখ্য, এর আগে একই পরিচালকের টেলিছবি ‘টু বি অর নট টু বি’-তে এই তারকা জুটি অভিনয় করেছিলেন।