বরিশালে লড়ছেন ৫৪ নারী কাউন্সিলর প্রার্থী
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২১:০২
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৫৪ জন নারী প্রার্থী। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি সংরক্ষিত আসনের ১০টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭ জন নারী। বাকী ৭ জন পুরুষ প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে পুরুষ প্রার্থীদের সাথেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরুষদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া ৭ নারী প্রার্থীদের চেয়ে কম ধকল যাচ্ছে না সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রার্থীদের। তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে তাদের একেকটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। তাইতো পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীদের চেয়ে ৪৭ নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর ছুটতে হচ্ছে প্রায় তিন গুণ বেশি ভোটারের কাছে।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ঘর থেকে বের হন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রার্থী সালমা আক্তার শীলা। স্বামী আনোয়ার হোসাইন বিএম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। কিছুদিন আগেও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বামী - স্ত্রী দু’জন রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় খুব বেশী অসুবিধা হয় না সালমা আক্তার শীলার। স্বামী যথেষ্ট সহায়তায় করেন ঘর সংসারের কাজে। আর শীলা নিজে ছুটে চলেন ভোটারদের পিছনে। গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন নারী কর্মীদের নিয়েই চলছে তার প্রচার প্রচারণা। গত সিটি নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের কৌঁশলটা বেশ ভালই রপ্ত করছেন। তাই ভোটারদের মন জয় করতে এখন দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তিনি।
এবার শীলার প্রতিদ্বন্দ্বি আমেনা আক্তার, নাছিমা বেগম, ফরিদা বেগম নিয়াজী, মোসাত্ নার্গিস আক্তার ও মোসা: সাহানা আফরোজ। এদের মধ্যে নাছিমা বেগম গত দু’টি নির্বাচনে এ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায় বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নাছিমা। পেশায় তিনি একজন নার্স (সেবিকা)। এলাকাবাসীকে সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে তিনি অবিরাম ছুটে চলছেন ভোটারদের কাছে। ১৯, ২০ ও ২১নং ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত ৭নং ওয়ার্ডে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬ জন। তবে সকল নারী কাউন্সিলররা ভোটারদের পিছনে সমান সময় ব্যায় করতে পারেন না। অনেক নারী প্রার্থীকে সংসার সামাল দিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে হয়। আবার অনেক প্রার্থী নামে মাত্রই কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। ভোটের মাঠে তারা নেই। রাজনীতিবিদ স্বামী বা সাবেক কাউন্সিলর স্বামীর ইচ্ছা পূরণেই তাদের প্রার্থী হওয়া। বিগত দিনে এ রকম নারী প্রার্থী নির্বাচিত হতেও দেখা গেছে। কিন্তু নারী ওয়ার্ডের জন্য নাগরিক সনদ পত্র প্রদান ও দাপ্তরিক কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার মধ্যেই তাদের সকল কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অধিকাংশ নারী কাউন্সিলর প্রার্থী জানিয়েছেন তারা নিজেদের জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতেই প্রার্থী হয়েছেন। এ রকম একজন নারী নেত্রী আয়শা তৌহিদা লুনা। গত নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি পুরুষ প্রার্থীদের মোকাবেলায় বেছে নিয়েছেন সাধারণ ১১নং ওয়ার্ড। সার্বক্ষণিক রাজনীতির সাথে যুক্ত লুনার পরিবার দীর্ঘদিন যাবত্ বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি নিজেও স্থানীয় বিএনপি ও মহিলা দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ স্থানীয় নেত্রী হিসাবে পরিচিত নগরবাসীর কাছে। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বি হুমায়ুন কবির ও মজিবুর রহমান। ইতিপূর্বে এ ওয়ার্ডে একাধিক বার নির্বাচিত হয়েছিলেন লুনার ভাই সফিকুল আলম গুলজার। এবার গুলজার প্রার্থী হননি।
বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে যাদের মা অথবা বাবা কাউন্সিলর ছিলেন তারই ধারাবাহিকায় কেউ কেউ সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে। নতুন মুখের এ প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।