সিলেটে স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় আবহ
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২১:০৩
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থানীয় সরকার পর্যায়ের হলেও এই নির্বাচনে এখন জাতীয় নির্বাচনের আবহ বিরাজ করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে এই নির্বাচন হওয়ায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তথা জোট সিটি নির্বাচনকে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকারের এই নির্দলীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ দলীয় নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সিটি নির্বাচনে জিতে তাদের জনপ্রিয়তা যে এখনো অটুট রয়েছে সেটা প্রমাণ করতে চায়। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করে সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে সেটা দেখাতে মরিয়া। তাই ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে তাদের নিজ নিজ দল ও জোটের স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে অবস্থান করে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে দিনরাত গণসংযোগ, পথসভা করছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেরই কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুকে তুলে ধরছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। এ কারণে স্বাধীনতাবিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে নানা পাঁয়তারা করছে। তাই তাদেরকে রাজপথের পাশাপাশি ব্যালটের মাধ্যমেও প্রতিহত করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার ইসলাম ও আলেম-উলামাদের শত্রু। তারা মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করেছে। স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। তাই ঐক্যবদ্ধ রায় দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতার সকল পর্যায় থেকে উত্খাত করতে হবে।
কামরানের প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা
বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান তুখোড় নেতারা অংশ নিচ্ছেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও মোহাম্মদ নাসিম ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, হাবিবুর রহমানসহ আরো অনেকে সিলেটে গণসংযোগ-পথসভা করছেন। তারা কামরানকে বিজয়ী করতে সিলেটবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলছেন, সিলেট একটি শান্তির জনপদ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সিলেটে গ্রেনেড-বোমা আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। এখন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হলে সিলেট নগরী আবারও সন্ত্রাসীদের দাপটে চলে যাবে। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়বে। তাই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে কামরানকে বিজয়ী করতে হবে।
আরিফুলের প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা
আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকনসহ আরো অনেকে সিলেটে আরিফুলের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি নেতারা তাদের সমর্থিত প্রার্থী আরিফুলের পক্ষে ভোট চেয়ে বলছেন, সদ্য বিদায়ী মেয়র কামরান সিলেট নগরীর কোন উন্নয়ন করেননি। সিলেটের যত উন্নয়ন হয়েছে সবই করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান। আর সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী এ সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তাই নগরীর যথাযথ উন্নয়নের জন্য আরিফুলকেই মেয়র নির্বাচিত করতে হবে।