ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ, ভোটাররা সন্তুষ্ট
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২১:০৩
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তবে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকোচ করে দিয়ে বলেছেন, গুরুতর আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে প্রার্থীদের জরিমানা করা হচ্ছে। কারো পক্ষ নেয়া হচ্ছে না। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট সাধারণ ভোটাররা। তাদের অভিমত, ভ্রাম্যমাণ আদালত না থাকলে কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে বেপরোয়া হয়ে উঠতো রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ক্যাডাররা। ফলে সংঘর্ষ, হানাহানি শুরু হয়ে যেত।
জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের এক সমর্থক এবং বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের তিনকর্মীকে জরিমানা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাঁচজন সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা করেছে। তবে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে রবিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে বড় ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শনের অভিযোগে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের এক সমর্থককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল করার অভিযোগে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পথসভা বন্ধ করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান মেয়র প্রার্থী বুলবুলের কর্মী আরিফুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর আগে বুলবুলের নির্বাচনী অফিসে সিডি বাজানোর অভিযোগে কর্মী মামুন হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই দিনে একাধিক মাইক ব্যবহারের অভিযোগে বুলবুলের আরেক কর্মী আনোয়ার হোসেনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত মিছিলের মাধ্যমে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত হোসেন শাহুকে ৩০ হাজার টাকা, একের অধিক মাইক ব্যবহারের মাধ্যমে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলামকে ৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ারা বেগমকে ১ হাজার টাকা ও শামসুন্নাহারকে ১০০ টাকা জরিমানা করেছে। এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অভিযোগ করে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত একজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মীদের হয়রানি করছে। যেসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ এবং নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আচরণবিধির বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আন্দোলন ও প্রতীক্ষার গ্যাস সংযোগের পর জনগণ আনন্দ মিছিল করবে এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য কাউকে ধরে নিয়ে হয়রানি করা সঠিক হয়নি।