কল্পনা চাকমা অপহরণ রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার

কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৭তম বাষির্কী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনা শুধু আদিবাসীদের বেদনা ও ক্ষোভ নয়, এটি দেশের সকল নাগরিকের বেদনা ও ক্ষোভ। এ ঘটনাকে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাদেশে জাতীয় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। কল্পনা চাকমা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাকে শুধু বাংলাদেশের নারীদের নয়, দেশের সকল নাগরিকের মুক্তির চেতনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বুধবার ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’-এর উদোগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব অপরাধের সমান বিচার অপরিহার্য। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের কথা থাকলেও দেশের এ যাবত্কালীন সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখায়নি। কথা সাহিত্যিক ও জাতীয় মানবাধিকারের সদস্য সেলিনা হোসেন বলেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৭ বছর পরও বিচার না হওয়ায় এই চরম মানবাধিকার লংঘন রাষ্ট্রের ও সুশীল সমাজের কাছে চরম লজ্জার। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, কল্পনা চাকমার অপহরণের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারী ধর্ষণ, অপহরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। সভাপতির বক্তব্যে চঞ্চনা চাকমা বলেন, কল্পনা চাকমার অপহরণের ঘটনা নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে তা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার মনিরা ত্রিপুরা। আলোচক মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসী অফিসার জনা গোস্বামী, এএলআরডি পরিচালক রওশন জাহান মনি প্রমুখ। সভা শেষে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কল্পনা চাকমা অপহরণের যথাযথ বিচারের দাবিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ পত্র পেশ করেন।