বিচারাধীন মামলা ১৯ লাখ
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রচলিত আইনেই বিচার করা যাবে। এ জন্য নতুন করে কোন আইন করার প্রয়োজন নেই। বুধবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদে সংসদকে এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সারাদেশে চার ধরনের আদালতে প্রায় ১৯ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপরদিকে উচ্চতর থেকে নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা ৩১ লাখের বেশি।
হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রচলিত আইনে অর্থাত্ পেনাল কোডের ২৯৫-২৯৮ সেকশনে ব্যবস্থা রয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা না থাকায় নতুন করে কোন আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। শওকত মোমেন শাহজাহানের প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী জানান, সারাদেশে চার ধরনের নিম্ন আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৪১টি। এরমধ্যে দেওয়ানি মামলা ছয় লাখ ৮১ হাজার ৩০৭ এবং ফৌজদারি মামলা তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৬০টি। এছাড়াও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে ছয় লাখ ১৩ হাজার ১৪ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসিতে দুই লাখ ১০ হাজার ৮৬০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনপূর্বক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এ লক্ষ্যে বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম চলছে।
একই বিষয়ে বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ১০ হাজার ৪৭৫, হাইকোর্ট বিভাগে দুই লাখ ২৩ হাজার ৮১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অপরদিকে নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার মামলার সংখ্যা ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৩৩টি। মো. আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থ বছরের এ পর্যন্ত দেওয়ানি ও দায়রা আদালতের জন্য ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অপরদিকে জেলা জজ আদালত থেকে কর ছাড়া বিভিন্ন খাতে রাজস্ব প্রাপ্তি হয়। চলতি অর্থ বছরের এ পর্যন্ত দেওয়ানি ও দায়রা আদালত থেকে আয়ের পরিমাণ হচ্ছে ৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রিমান্ডের আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তদন্তকারী পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ (২) এর বিধান অনুসারে আদালত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই রিমান্ড দেয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি এবং হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। রিমান্ডের আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার ১২ দফা নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবুল খায়ের ভুঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট চারজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দলিল নিবন্ধনের শত বছরের পুরানো পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে আধুনীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও রেকর্ড আধুনিকায়নের জন্য সরকার ২০১০ সাল থেকে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার উন্নয়নের জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধি অনুসারে ‘ ডাটা সফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সঙ্গে গত ৪ ডিসেম্বর সরকারের চুক্তি হয়েছে। চলতি বছরেই প্রস্তাবিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।