গণমাধ্যমও আইনের ঊর্ধ্বে নয় :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু কিছু গণমাধ্যম স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অসত্য তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। কেউ যদি আইন পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় তা বিচার্য হবে। গতকাল বুধবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সংসদকে এ কথা বলেন। মো. তাজুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে এ স্বাধীনতা ভোগ করা যাবে মর্মে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি গণমাধ্যমের কোন সংবাদে সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন তাহলে প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪ ছাড়াও দেশের প্রচলিত ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় প্রতিকার চাইতে পারেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাসী বিধায় সংবাদ প্রচারে কোন সেন্সরশীপ আরোপ করেনি। তবে এ কথা সত্য যে, কিছু কিছু গণমাধ্যম এ স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অসত্য তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে। অপু উকিলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর গবেষণা এবং তার অমর সৃষ্টিকে স্মৃতিতে অম্লান রাখার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রস্তাবিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যায়। বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৫৪৫ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উত্পাদন হলো ছয় হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট। বেগম রওশন জাহান সাথীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইট উত্পাদন বন্ধ না করে সরকার প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা আনয়নের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় ইটভাটা আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদেরকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুনের আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করার সময় দেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে আসার আহবান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, এদিক ওদিক না করে গণতন্ত্রের পথে আসুন। এতে আপনিই লাভবান হবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আবারও জেলের ভাত খেতে হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। কেউ ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের আর্মড ক্যাডার ব্যবহার করে, আর হেফাজতকে বসিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় এখন উনি (খালেদা) তাল হারিয়ে ফেলেছেন, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার গণভবনে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) যে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন, উনি কী ভুলে গেছেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ওনার ছেলেদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে মুচলেকা নিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের নওগাঁ জেলার সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এমপি। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বীসহ জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। দলের উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান প্রমুখ।