সুরঞ্জিতকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিন
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
আল্লাহর নামে কটূক্তি ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার অভিযোগে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। বক্তারা নাস্তিক মুরতাদদের মনোরঞ্জন করার জন্য সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে দেয়ার নেপথ্য কারিগর হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ফন্দি আঁটছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
গতকাল বুধবার এক প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। চট্টগ্রাম জামিয়া আজিজুল উলুমের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মোজ্জাম্মেল হক। থানা-উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা ইদরিস, মাওলানা সলিমুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা কুতুবুদ্দিন, মাওলানা আবু রায়হান ও ইকবাল খলিল প্রমুখ।
সম্মেলনে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রিত্ব-হারানো দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্প্রতি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে গোলটেবিল আলোচনায় মহান আল্লাহর পবিত্র তাসবীহ ‘সুবহানাল্লাহ’ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
মাওলানা শামসুল আলম বলেন, একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও সুরঞ্জিত মুসলমানদের পবিত্র তাসবীহ ‘সুবহানাল্লাহ’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। ৬ এপ্রিলের লংমার্চ, বিভাগীয় ও জেলা শহরের শানে রেসালত সমাবেশে নজীরবিহীন জনবিস্ফোরণ ও ৫ মে’র ঢাকা অবরোধে লাখো জনতার মহাসমুদ্র দেখে ইসলাম-বিদ্বেষী ও নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষক বর্তমান সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। সেদিন রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ঘুমন্ত তাওহিদী জনতার উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে, সুরঞ্জিতের বক্তব্য এরই ধারাবাহিকতা।
মাওলানা আবদুল মালেক হালিম বলেন, সারা দেশে সুরঞ্জিতের শাস্তি দাবি ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি ওঠায় তিনি দায়সারা ক্ষমা প্রার্থনা করলেও হেফাজতে ইসলামকে ক্ষমতালোভীদের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহূত হবার অপবাদ দিয়েছেন।
মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা সুরঞ্জিতদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, আহত সিংহকে খোঁচাবেন না। আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথ থেকে সরে যাইনি।