তাড়াশে দেড় শ’ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বেদম পেটালেন শিক্ষক রবিউল

একজন ছাত্র শিক্ষককে সালাম না দেয়ায় গত সোমবার সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার উত্তর সীমানার গুল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন একজন সহকারী শিক্ষক। বেত্রাঘাতে মারাত্মক আহত ৩০ জন ছাত্রছাত্রী গতকাল বুধবার পর্যন্ত চিকিত্সাধীন ছিল। অনেক ছাত্রছাত্রী আতংকে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছে। স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন। সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার গুল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রবিউল করিম দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় শ্রেণিতে প্রবেশ করেই ছাত্রছাত্রীদের বেধড়ক পেটাতে থাকেন। ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রী ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়ে। কেন তাদেরকে পেটানো হচ্ছে তা তারা জানতে বা বুঝতে পারেনি। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে প্রবেশ করে একইভাবে তাদেরকেও পেটায়। এ সময় সকল শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ছাত্রছাত্রী কান্নাকাটি করতে থাকে। এ ঘটনার পর সহকারী রবিউল করিম স্কুল থেকে বাইরে চলে যান। এ অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকগণ দ্রুত স্কুলে আসেন এবং ছাত্রছাত্রীদের কান্নাকাটি ও ভীত-সন্ত্রস্ত দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা উক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইমরান ও প্রধান শিক্ষক এ প্রতিনিধিকে জানায়, স্যারকে একজন ছাত্র সালাম না দেয়ার কারণে তাদের সবাইকে পেটানো হয়েছে। কথা হয় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবু তালহা, তুহিন, ইমরান, আশিক, ছাত্রী মহারানী, সনিয়া, মাহফুজা, পপি, মারিয়া, ছুম্মা, ঈশিতা, অনুপমা, নন্দনীর সাথে। আহত অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছে পপি আকতার, নাছরিন, জয় কর্মকার, রিজভি, প্রাণতোষ। গুল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আগামী শুক্রবার স্থানীয়ভাবে শিক্ষক রবিউল করিমের অভিভাবকের মাধ্যমে সালিশে মীমাংসা করা হবে। এ ঘটনায় স্কুলের অন্য শিক্ষকগণও মর্মাহত। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শাহজাহান আলী বলেন, আমি বিষয়টি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে এসে দেখতে পাই ছেলেমেয়েরা কান্নাকাটি করছে। বিষয়টি দুঃখজনক। শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবির উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। গতকাল বুধবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ৩টি শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বেধড়ক পেটানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।