রায়পুর ও ছাতকে পুলিশের নির্যাতনে ২ আসামির মৃত্যুর অভিযোগ
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০০
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশের নির্যাতনে দুই আসামির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা রায়পুরা থানা ঘেরাও করে হামলা ও ভাংচুর করেছে। এ সময় ৫ পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার।
লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুলিশের নির্যাতনে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা রায়পুর থানা ঘেরাও করে হামলা ভাংচুর চালায়। এ সময় জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ৫ পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়। পরে জনতা ঢাকা-রায়পুর মহাসড়ক সকাল ১০টা থেকে দুপুুর ১টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে । স্থানীয়রা জানায়, রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামে মোঃ জয়নাল আবদীনকে তার স্ত্রীর দেয়া নারী নির্যাতন মামলায় এসআই আজাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। রাতে এসআই আজাদ তাকে বেদম মারপিট করলে জয়নালের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জয়নালকে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিত্সক জানান, মৃত অবস্থায় তাকে এখানে আনা হয়। এ খবর শুনে জয়নালের ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও ও হামলা চালায়। রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান, আসামি জয়নাল আবেদিন পুলিশ হেফাজতে আত্মহত্যা করেন। পরে লাশ নিয়ে হাসপাতালে গেলে উত্তেজিত লোকজন থানায় ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করে।
ছাতক (সুনামগঞ্জ)ঃ ছাতকে পুলিশের নির্যাতনে ওয়ারিছ আলী নামে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওয়ারিছ আলী (৪৫) পৌর শহরের বাশখালা গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র। সোমবার রাতে একটি মিলের পুকুরে মাছ ধরতে গেলে মিলের আনসার ও সিকিউরিটিরা তাকে আটক করে নির্যাতন করে। মঙ্গলবার সকালে তাকে ডাকাত বলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ হেফাজতে আহত ওয়ারিছ আলীকে প্রথমে ছাতক ও পরে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ওয়ারিছ আলীর মৃত্যু ঘটে। তবে ওয়ারিছ আলীর ছোট ভাই রহমত আলীর দাবি, পুলিশ, আনসার ও সিকিউরিটিদের নির্যাতনে তার ভাই মারা গেছে। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি জানান, ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন আসামি ওয়ারিছ আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আগেই নির্যাতন করা হয়েছে। থানায় তাকে নির্যাতন করা হয়নি। মিলের সিকিউরিটি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, মিলে চুরি করতে এলে ওয়ারিছকে আনসাররা আটক করে। এ সময় সে এক আনসারকে জখম করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দেয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে অল্প আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ অবস্থায় ওয়ারিছকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ছয়েফ উদ্দিন জানান, আনসাররা ওয়ারিছকে নির্যাতন করেনি। এদিকে নিহত ওয়ারিছকে প্রধান আসামি করে মিলের সিকিউরিটি কর্মকর্তা ৫ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় চুরির মামলা করেছেন। সুরতহাল রিপোর্টে ওয়ারিছের শরীরে ১৮টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আত্মীয়-স্বজনের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ।