সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রাণবন্ত সংসদ
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০৪
গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ২০ মিনিট অনির্ধারিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। এতে সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিতব্য দেশের চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রথমে ফ্লোর নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত করেন বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিরোধী দল মন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে চার সিটি করপোরেশন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানায়।
বিরোধী দলের অভিযোগ নাকচ করে সরকার দলীয় সদস্যরা বলেন, বিএনপির মতো মাগুরা বা ফালু মার্কা নির্বাচন বর্তমান সরকার যে করে না তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত সাড়ে চার বছরে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিরোধী দল চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের ভরাডুবি ও পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই নির্বাচন নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টির মাধ্যমে অজুহাত বের করছে।
নির্ধারিত সময়ের ৩৮ মিনিট পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে এ্যানী বলেন, গত দুদিন ধরে সংসদে কোরাম সংকট চলছে। বিরোধী দল সহযোগিতা করছে বলেই বৈঠক শুরু করা সম্ভব হচ্ছে। আর কোরাম সংকটের মূল কারণ বরিশাল, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যদের ব্যস্ততা। তারা সংসদে সময় না দিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো বলেন, চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনী এলাকায় এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোটাররা আতঙ্কে রয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে নির্বাচনকে ঘিরে অস্ত্রের মহড়া চলছে। সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ পুলিশ নিষ্ক্রিয়। বরিশালে বিএনপির কর্মীদের ওপর পুলিশ গুলি করেছে। রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থীকে প্রচার চালাতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ্যানীর অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই বিএনপি আগে থেকেই এ ধরনের অভিযোগ করে অজুহাত তৈরি করছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। সরকার তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করছে, কারণ তারা বুঝে গেছে হেরে যাবে। তিনি বলেন, পত্রিকার সংবাদের ওপর কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। কিছু কিছু পত্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করে। বরিশালে পুলিশ সন্ত্রাসীকে ধরার পর বিএনপি কর্মীরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করেছে বলেই পুলিশ গুলি করেছে। সেলিম বলেন, বিএনপির একজন হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘রক্তের গঙ্গা বইয়ে দেব’ এই হলো বিএনপির আচরণ। এতোদিন তারা বলে আসছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কিন্তু তারা জানেন এ সরকারের সময়ই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়।
বিরোধী দলের জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কি ধরনের নির্বাচন হয় তা দেখার জন্যই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখা এবং ভোটাররা যেনো নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন সে লক্ষ্যে সেনা মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, বিএনপি আগের নির্বাচনগুলোতে কেন অংশ নেয়নি তা সবাই জানে। তবে সেগুলো বলতে গেলে তিক্ততার সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করতে চাই না। সরকার গঠন হওয়ার পর এ সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।