আবার মেয়র হলে ৪ গুণ উন্নয়ন করবো :লিটন

নতুন করে নির্বাচিত হতে পারলে এবারের চেয়েও চারগুনণ বেশি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি রেস্টুরেন্টে ডাকা এক জরুরী সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল শেষ দিনের প্রচারণায় চষে বেড়িয়েছেন রাজশাহীর এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। সাংবাদিক সম্মেলনে বিগত সাড়ে চার বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ অবকাঠামোর উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নগরবাসীর কাছে ভোট চাইলেন লিটন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী মহানগরীর জন্য সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এর কিছু শুরু হয়েছে, কিছু শেষ এবং চারগুণ কাজ বাকী আছে। বাকী কাজ শেষ করতে পারলে এ শিক্ষা নগরী দেশের মধ্যে সব থেকে সুন্দর বাসযোগ্য, প্রাণাঞ্চল সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, এবারের মূল লক্ষ্য অন্তত ৫০ হাজার মানুষের কর্মসৃজন। এরই মধ্যে নগরীতে দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। শিল্পখাতে গ্যাস সংযোগ ও একশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করায় শিল্পোদ্যোক্তারা রাজশাহীতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী সাবেক এই মেয়র আরো বলেন, তিনটি স্কুল ও দু’টি কলেজের দায়িত্ব নিয়েছে সিটি করপোরেশন। আমরা সিটি ইউনিভার্সিটি করতে যাচ্ছি। ইউজিসি অনুমোদনপ্রাপ্ত এই ইউনিভার্সিটির কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শুরু হবে। রাজশাহীতে আরো দু’টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজকে তিন মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে কাজ পাঁচ বছেরের মধ্যে শেষ হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, কামরুজ্জামানের সুযোগ্য পুত্র লিটন মাত্র সাড়ে চার বছরে রাজশাহী নগরকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে একটা গাড়ি ব্যবহারের অনুমতির জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে ফিরে এসেছি। প্রতিপক্ষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরাতো নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধমক দেইনি, ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছিত করিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, সদস্য সচিব ডা. সৈয়দ শাফিকুল আলম, যুক্তরাজ্যের সাবেক হাইকমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী লিকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রচারণার শেষ দিন মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল বেলা ১১টায় নগরীর শালবাগান বাজার থেকে দিনের গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, কুমারপাড়া, ফুদকিপাড়া, সাহেবগঞ্জ, বড়কুটিপাড়া, গণকপাড়া, মিয়াপাড়া প্রভৃতি এলাকায় গণসংযোগ করেন। বুলবুলের গণসংযোগ : সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীর ওয়াসা ভবন, পিডিবি ভবন এবং বরেন্দ্র ভবন এলাকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের পক্ষ হতে বার বার ভয়ভীতি প্রদর্শন, পোস্টার ব্যানার কেটে ফেলাসহ হুমকি ধামকির অভিযোগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বার বার কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বিগত বছরগুলোয় নগরবাসী শিক্ষাঙ্গনসহ নগরীতে প্রকাশ্যে যে অস্ত্রের তাণ্ডব দেখেছে তাতে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত। পুলিশ ও র্যাব এদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বিরোধী পক্ষকেই হয়রানি করতে ব্যস্ত রয়েছে। এদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্বাভাবিকভাবে। নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসীরা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই জনগণের রায়ের সুরক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরী বলে আমরা মনে করি। প্রচারণার সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওয়ালীউল হক রানা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপ্র প্রমুখ।