এক প্রার্থীর পক্ষে ১৫৫ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা
ভ্রাম্যমাণ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:১০
খুলনা সিটিতে একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষেই তার অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫৫ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী আইন উপেক্ষা করে এসব ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। খুলনার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫৫ জন শিক্ষককে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা করা হয়েছে। নির্বাচনে এসব শিক্ষক প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিনটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নিয়ন্ত্রক আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। বাকি তিনটিতে মেয়র থাকাবস্থায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওই তিন প্রতিষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়মিত ভাতা ও অনুদান দেয়া হয়। আইন অনুযায়ী প্রার্থীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে বাধা-নিষেধ রয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুক জানান, প্রার্থীদের প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা শিক্ষককে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা করা হয়েছে তাদেরকে নিজ কর্ম এলাকার বাইরে অন্যত্র নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যাতে তারা পক্ষপাতিত্ব করতে না পারেন। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীরা কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তা আমার জানা নেই। প্রার্থীর অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুখে মুখে কারচুপি
খুলনা সিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অশিক্ষিত থেকে শিক্ষিত প্রায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে। অনেকে পরিচিত সাংবাদিক দেখলেই জিজ্ঞাসা করছেন, ভাই বলুন তো নির্বাচনে নাকি কারচুপি হবে? গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর স্যার ইকবাল রোডের হান্নানের চায়ের দোকানে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন রিপ্রেজেন্টেটিভ চা খেতে খেতে বললেন, ভাই শুনছি ইলেকশনে ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার আশংকা রয়েছে। তখন তার পাশে দাঁড়ানো তারই এক সহকর্মী বললেন, দৌলতপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি এ ধরনের অভিযোগ শুনেছেন। এ ধরনের অভিযোগ নগরীর নিউমার্কেট, রূপসা, নূরনগর, ইকবালনগর, বড়বাজার, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ নগরীর সর্বত্র। তবে রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক ইত্তেফাককে বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেক গুজবই ছড়ায়। এতে কান দেবেন না। এই নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
মোবাইলে অনাগ্রহ মনির স্ত্রীর
বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির স্ত্রী ফৌজিয়া জামান। তিনি একজন পাকা গৃহিণী। তবে মেয়র প্রার্থীর স্ত্রী হলেও তার নেই কোন মোবাইল ফোন। বাসায়ও নেই তার ল্যান্ড ফোন। যোগাযোগের জন্য মাঝে মাঝে মনিরুজ্জামানের ফোন ব্যবহার করেন তিনি। ফোন না থাকায় যোগাযোগ করা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন তিনি। তবে নিয়মিত ফোনের ব্যাপারে তার রয়েছে অনাগ্রহ। ফৌজিয়া জামানের মতে, নিয়মিত ফোন ব্যবহারে তার ভালো লাগে না। এজন্য তিনি ব্যবহার করেন না মোবাইল।
কদর বেড়েছে বস্তিবাসীর
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বস্তিবাসী। এই বস্তিবাসীরা যেদিকে যাবে সেইদিকে জয়ের পাল্লা ভারি হবে—এমন মত খুলনাবাসির। এ জন্য বস্তিবাসীর কাছে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নগরীর ৬৫১টি বস্তিবাসীর কদরও বেড়েছে বেশ। কাকা-কাকী-চাচা-চাচী সম্বোধনও পাচ্ছেন তারা। শুধু প্রার্থীদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহারই নয়, অর্থও পাচ্ছেন বস্তিবাসীরা। ভোট এলেই যেন বেজাই খুশি হন তারা।
মধ্যরাতে বন্দুক-গুলি উদ্ধার
বুধবার মধ্যরাতে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার বাস্তুহারা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বন্দুক ও একটি গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খালিশপুর জোন) মোঃ জয়নুদ্দীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানকালে বাস্তুহারা এলাকার একটি পার্কের সামনে দর্শনার্থীদের বসার বড় একটি ছাতার নিচ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও গুলি কে বা কারা কি উদ্দেশে ওইখানে রেখেছিল তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।