হলফনামায় লিটন ও বুলবুলের যত তথ্য

খায়রুজ্জামান লিটন :২০০৮ সালে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের দাখিলকৃত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এবার দাখিলকৃত হলফনামায় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭২ টাকা। এ হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে মেয়র লিটনের বার্ষিক আয় বেড়েছে ২৪ গুণ। তিনি ২০০৮ সালের হলফনামায় কৃষি খাতে তথা আবাদযোগ্য জমি থেকে বার্ষিক আয় ৫০ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে ৫০ হাজার, ব্যবসা থেকে ৮৪ হাজার এবং আইন পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখান ৬০ হাজার টাকা। এবারের হলফনামায় তিনি মেয়রের বেতন (সম্মানী) থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৬ শত টাকা, রিয়েল স্টেট থেকে ৫০ লাখ টাকা, ব্যাংক মুনাফা থেকে ২ লাখ ৫৪ হাজার ১ শত ৭২ টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন। এবারের হলফনামায় আইন ব্যবসা পেশা হিসেবে দেখালেও এই খাত থেকে তার কোনো আয় দেখানো হয়নি। হলফনামায় প্রদত্ত বার্ষিক আয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। দাখিলকৃত হলফনামার সম্পদ বিবরণীতে তিনি বলেন, উল্লিখিত ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭২ টাকার বার্ষিক আয়ের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা আমার ঢাকাস্থ পারিবারিক প্লট, যা ডেভেলপারের সাথে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চুক্তি সম্পাদনের সাইনিং মানির অংশ হিসেবে প্রাপ্ত। এছাড়া মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে গত ৫ বছরে প্রতি বছর সম্মানী বাবদ পেয়েছি ৬ লাখ ২১ হাজার ৬ শত টাকা। তিনি বলেন, যা সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে অর্জিত এবং এর আয়কর যথাযথভাবে পরিশোধ করেছি। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল :২০০৮ সালের নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখান ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এবারের হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তার দুই হলফনামা তুলনায় পার্থক্য কম। তিনি সাধারণ ব্যবসাকেই পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন। তার বার্ষিক আয়ের সবটুকু আসত পুকুরে মাছ চাষ করে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যত মামলা :বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এই মামলা দুইটিও বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়েরকৃত বলে তার আইনজীবী দাবি করেন। এছাড়া সদ্য বিদায়ী মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। ১৯৯৬ সালে তার বিরুদ্ধেও দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানেও রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৪১ জন। শুধুমাত্র মামলায় অভিযুক্ত এমন কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ৫ জন। মামলা বিচারাধীন রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৯ জন। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৫ জন। মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এমন প্রার্থী একজন, খালাস পেয়েছেন এমন প্রার্থী সংখ্যা ৭ জন এবং মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এমন প্রার্থী ৩ জন। অন্যদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে বৈধভাবে মনোনীত ৬৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। তবে তারা সকলেই কেবলমাত্র অভিযুক্ত বলে জানা গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১১২ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র কম। এ সংখ্যা সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের ১৭০ প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৭৫ এবং ৬৭ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৩৭ জন। নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের সর্বাধিক ৪৩ জন নিজেদের ‘সাক্ষরজ্ঞান’ বা ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ বলে দাবি করেছেন। এছাড়া ১০ জন স্নাতকোত্তর, ২২ জন স্নাতক, ৩৪ জন এইচএসসি, ২৮ জন এসএসসি, ২০ জন অষ্টম শ্রেণি, ৫ জন নবম-দশম শ্রেণি, ২ জন ষষ্ঠ ও ১ ডিপ্লে¬ামা ডিগ্রিধারী বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ২১ জন প্রদত্ত হলফনামায় নিজেদের ‘অষ্টম শ্রেণি’ বলে উল্লে¬খ করেছেন। এছাড়া ৩ জন স্নাতকোত্তর, ৩ জন স্নাতক, ১২ জন এইচএসসি, ১২ জন এসএসসি, ৫ জন নবম-দশম শ্রেণি, ১ জন স্বশিক্ষিত ও ১০ জন সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলে দাবি করেছেন। সূত্র মতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৪০ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। তাদের ১৫ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র কম। বিগত নির্বাচনে বিজয়ী এবারের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদা মল্লি¬ক, কোহিনূর চৌধুরী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তবে মুসলিমা বেগম ও রাজিয়া সুলতানা বিজলী প্রদত্ত হলফনামায় নিজেদের ‘সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ উল্লে¬খ করেছেন। এছাড়া নতুন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১ নং জোনের প্রার্থী জেবুননেসা, ২ নং জোনে সেলিনা খাতুন, ৩ নং জোনে সাহানারা বেগম, ৪ নং জোনে পলি খাতুন ও শবনম আরা ময়না, ৬ নং জোনে নূরবানু ও নাসিমা বেগম, ৯ নং জোনে মোসা. লাইলী বেগম ও ১০ নং জোনে শামীমা বেগম নিজেদের ‘সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ বলে দাবি করেছেন। সূত্র মতে, সাধারণ কাউন্সিলর পদে গতবারের বিজয়ী এবং এবারের প্রার্থী ১ নং ওয়ার্ডের মনসুর রহমান, ৯ নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান বাবলু, ৮ নং ওয়ার্ডের আব্দুল হামিদ, ১৪ নং ওয়ার্ডের মো. টুটুল, ১৮ নং ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম, ১৭ নং ওয়ার্ডের শাহাদত আলী শাহু, ২০ নং ওয়ার্ডের মুস্তাক হোসেন, ২৬ নং ওয়ার্ডের মখলেসুর রহমান খলিল, ২৫ নং ওয়ার্ডের আকবর হোসেনের প্রদত্ত হলফনামায় নিজেদের ‘সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ উল্লে¬খ করেছেন। এছাড়া ১০ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আব্দুর রহিম খান লাভলু এবং ১৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী রবিউল আলম মিলু নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘ষষ্ঠ শ্রেণি’ উল্লেখ করেছেন। পাস কিনা—এমনটাও উল্লে¬খ নেই। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে পেশায় সর্বাধিক ৯৩ জন ব্যবসায়ী, ২৩ জন কৃষিজীবী, ১৯ জন ঠিকাদার, ১২ জন চাকরিজীবী, ৬ জন শিক্ষক, ৪ জন গৃহস্থ, ২ জন ট্রাকচালক, ১ জন ইমাম, ১ গৃহিণী ও ৮ জন তাদের পেশার কথা হলফনামায় উল্লে¬খ করেননি। সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে পেশায় সর্বাধিক ৪৬ জন গৃহিণী, ৮ জন ব্যবসায়ী, ৩ জন চাকরিজীবী, ৩ জন কাউন্সিলর, ২ জন সমাজসেবী, ১ জন ঠিকাদার, ১ জন শিক্ষক এবং ৮ জন তাদের পেশা হলফনামায় উল্লে¬খ করেননি। প্রসঙ্গত, একজন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর হলফনামার তথ্য পাওয়া যায়নি।