বটিয়াঘাটায় সূর্যমুখীর চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক
আব্দুল হামিদ, বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৩৬
উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অনুদানে চলতি অর্থ বছরে মোট ১৭২ একর জমিতে ২৫৫ জন কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। দুর্যোগ আর প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সূর্যমুখীর বীজ কেটে তারা ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এক ফসলী এলাকা হিসেবে পরিচিত বটিয়াঘাটা উপজেলায় এক সময়ে বছরে শুধু আমন ধানই উত্পাদিত হত। ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে অনুদান প্রদানের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়। তারা সূর্যমুখীর চাষ করে আশানুরূপ ফল লাভ করায় এখন সে দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। ব্র্যাক কৃষকদের মাঝে একর প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা প্রদান করে। তারা ডিলারদের নিকট থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে বীজ ক্রয় করে। বাকি ৫ হাজার টাকা দিয়েই চাষ, সেচ আর সারের ব্যবস্থা করে। একর প্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা।
সূর্যমুখীর বীজ উত্পাদন হয় একরে ২৫/৩০ মণ। প্রতি মণ বীজের বিক্রয় মূল্য ১ হাজার ৭শ টাকা। মোট মুনাফা অর্জন করে একরে ৪৪ হাজার টাকা। জলমা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের কৃষক জাদব বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, তার ৩ বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। উত্পাদিত বীজ প্রতি মণ বিক্রয় হয় ২ হাজার টাকা। মাত্র ৩ মাসেই লাভ করেন প্রায় ৪২ হাজার টাকা। সুরখালী ইউনিয়নের তিতুখালী গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাস, সুখদাড়া গ্রামের নিভা রানী সরকার, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের দেবীতলা গ্রামের লুত্ফর কাজী, বটিয়াঘাটার প্রদীপ কুমারসহ অনেকেই বলেন, তারা প্রথম বারে ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অর্থ প্রাপ্ত হয়ে সূর্যমুখী চাষ করে অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। আগামীতেও তারা একইভাবে চাষাবাদ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। গত ৫ জুন ব্র্যাকের আয়োজনে সূর্যমুখীর ফসল কর্তন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বটিয়াঘাটা ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির উপজেলা ব্যবস্থাপক ফাতিমা আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপংকর বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল আজিজ, ইউএনও শান্তি মনি চাকমা, ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গৌতম গুহ, বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ, কৃষি অফিসার বুদ্ধদেব সেন, সিনিয়র কৃষিবিদ হাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের বর্গাচাষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপজেলা ব্যবস্থাপক রুহুল আমীন, ব্র্যাকের কর্মসূচি সংগঠক ফারুক হোসেন, ধ্রুব চৌধুরীসহ উপস্থিত কৃষাণ-কৃষাণী।