সাফল্যগাঁথা
মাশরুম চাষে সফল উদ্যোক্তা
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৪২
২০০৫ সালে টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠান বদলে দিয়েছে তার জীবন। মাশরুম বিষয়ক এক প্রামাণ্যচিত্র দেখার পর উত্সাহিত হয়ে যাত্রা। তারপর কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। তিনি মাশরুমপ্রেমিক মাহবুব, পুরো নাম মাহবুব আলম। ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারের দেওগাঁয় তিনি সবার কাছে পরিচিত মাহবুব মাশরুম চাষি নামে। একদিন বেকার যে যুবকের জীবনে নেমে এসেছিল হতাশার কালোছায়া, মাশরুম চাষ করে সেই উদ্যোমী যুবকের ভাগ্য বদলে গেছে। মাহবুব এখন স্বাবলম্বী।
গত ৫ বছরে সকল বাধা অতিক্রম করে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম আর মেধার গুণে জয় করেন নিজের ভাগ্য। মাহবুবের নিরলস প্রচেষ্টায় সাভারে মাশরুম চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। গুণগত মানের মাশরুম উত্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তিনি এখন বিদেশে মাশরুম রফতানির চিন্তা-ভাবনা করছেন।
প্রথমে ছোট্ট পরিসরে সামান্য পুঁজি দিয়ে বীজ কিনে চাষ শুরু করেন মাহবুব। ভালো বীজ সংকটের কারণে মাশরুম চাষ ব্যাহত হয়। তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন বীজ তৈরি করার। মাশরুম বিষয়ক অভিজ্ঞ আকরামের কাছে তার কাজ শেখা। নূরের সহযোগিতায় কিছুদিনের মধ্যেই মাশরুম চাষে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেন মাহবুব। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে মাশরুম বিষয়ক ‘উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ’ নেন সাভারের জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দে । এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কম সময়ের মধ্যে মাশরুম চাষে সুনাম অর্জন করেন, খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।
২০০৯ সালে গাজীপুরে তার সহযোগিতায় দেশে প্রথম ‘বাটুন মাশরুম’ বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়। মূলধনের অভাব ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এ উদ্যোগে ভাটা পড়ে। মাহবুব জানান, বর্তমানে দেশে বাটুন মাশরুমের প্রচুর চাহিদা। পর্যাপ্ত মূলধন ও নিরবছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে বাটুন মাশরুম উত্পাদন করে বিদেশে রফতানি সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
বাটুনের পর ২০১০ সালে পরীক্ষামূলক উত্পাদন করা হয় ‘গ্যানোডার্মা লুসিডাম’ জাতের মাশরুম। এটি সাধারণত ওষুধি মাশরুম হিসেবে পরিচিতি। গ্যানোডার্মা মাশরুমের ওষুধি গুণে এর চাহিদা দেশে বাড়ছে। দেশীয় হারবাল কোম্পানিগুলো মাশরুম ওষুধ তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আমদানিনির্ভর এই মাশরুম এখন দেশেই উত্পাদন শুরু হয়েছে মাহবুবের ফার্মে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি রিসার্চ ফেলো আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘গ্যানোডার্মা লুসিডাম’ অত্যন্ত কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন এ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সানজিদা মুবাশশরা বলেন, এটি সাধারণত রোগ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহূত হয়। কিন্তু সাধারণ জনগণ এর উপযোগিতা সম্পর্কে জানে না। প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে গ্যানোডার্মা মাশরুমের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।