গল্প নয় সত্যি

স্কুলে দুষ্টুমি কমাবে সংগীত!

হয়তো শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক তার পড়ানোর কাজটি নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই শেষ করে ফেলেছেন। কিংবা নির্ধারিত কোনো ঘণ্টায় হয়তো উপস্থিত হননি সেই ঘণ্টায় যার পড়াবার কথা ছিল সেই শিক্ষক। এ ধরনের যেকোনো সুযোগেই স্কুলের শিশুদের একমাত্র কাজ বোধকরি দুষ্টুমি আর হৈ-হল্লায় মেতে ওঠা। এমনকি মাঝে মাঝে তো এই হৈ-হল্লার পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে পাশের ক্লাস থেকে অন্য শিক্ষককে এসে রীতিমতো ধমকে যেতে হয় এই ক্লাসের ছেলেমেয়েদের। অনেকেই হয়তো ভাবছেন শিশুদের কাছ থেকে এই ধরনের ব্যবহারই তো স্বাভাবিক। তবে গবেষকরা বলছেন অন্য কথা। তাদের দাবি যেসব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে মাত্রা ছাড়ানো দুষ্টুমির কারণে শিশুদের কারও আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেখানে এর কারণে অন্য শিশুদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে কিংবা যেখানে হৈ-হল্লা করা শিশুরা পরবর্তী ক্লাসে শান্ত ও সুস্থিরভাবে মন দিয়ে পড়া করতে পারে না তাদেরকে খুব সহজেই স্থির রাখতে পারে সংগীত। এই গবেষণার অংশ হিসেবে ইসরায়েলের একটি স্কুলে টিফিনের সময় ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সময় নেপথ্য সংগীত হিসেবে বাজানো হয় ‘দ্য স্পিরিট অব ইয়োগা’ মিউজিক। আর এভাবে সংগীত বাজানোর ফলে শিশুরা উত্ফুল্ল হয়ে খেলাধুলা করা, হৈ-হল্লা কম করা এবং শান্তমনে পরের ক্লাস শুরু করার মতো গুণ অর্জন করতে পারদর্শীতা দেখায় বলে পর্যবেক্ষণে দেখেছেন গবেষকরা। আবার এভাবে টিফিনের সময় ‘দ্য স্পিরিট অব ইয়োগা’র পাশাপাশি ভারতীয় ধারার সংগীত বাজিয়েও ইতিবাচক ফল পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের দাবি টিফিনের সময় অথবা শিক্ষার্থীদের অবসর সময়ে যদি তাদেরকে ভারতীয় সংগীত শোনানো হয় তাহলে শিশুদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি করার প্রবণতা বা একে অন্যকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়ার প্রবণতাও প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।