‘বিশ্বাসঘাতকতা’য় ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত মুশফিক

১০ মার্চ, ২০১৩। কলম্বো টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে মাঠ ছাড়ছেন বাংলাদেশের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান; মোহাম্মদ আশরাফুল (১৮৯*) ও মুশফিকুর রহিম (১৫২*)। শেষ পর্যন্ত মুশফিক হলেন দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। আর মুশফিককে উইকেটে রেখে ১৯০ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে সুখকর মুহূর্তগুলোর একটি। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের এক নায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল আজ ইতিহাস। স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে সবধরনের ক্রিকেট থেকে তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এলোমেলো করে দেয়া এই ঘটনা যে আরেক নায়ককেও ছুঁয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আর হলও তাই। আশরাফুলের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন অধিনায়ক মুশফিকও। জানালেন, আশরাফুলের ঘটনায় গৌরব হারিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। দুদিন হল শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। পাঁচদিনের এই ক্যাম্পের প্রথমদিন অধিনায়ক আশরাফুলের স্পট ফিক্সিং নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কোন খেলোয়াড়ই এই জাতীয় কাজের সাথে আগে জড়িত ছিল না। সেটা ছিল আমাদের জন্য অনেক বেশি গৌরবের। কয়েকজন খেলোয়াড় প্রস্তাব পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদেরকে অবশ্যই আমাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে। মাঠে আমরা যেমনই খেলি না কেন, দলের কেউই এই কাজের সাথে জড়িত না-এই ব্যাপারটা আমরা এতোদিন উঁচু গলাতেই বলতাম। এখনও তদন্ত চলছে; তবে যা ঘটেছে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুব খারাপ হল।’ আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগ (আকসু) তদন্ত পরিচালনা আর আশরাফুলের দোষ স্বীকারের পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না মুশফিক, ‘প্রথমে আমার অনেক খারাপ লাগে, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এরপরই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় আমাকে। যখন তার (আশরাফুল) কাছ থেকেই আকসুর তদন্তের ঘটনা জানতে পারি তখন খারাপ লাগার মাত্রাটা আরও বেড়ে যায়। বিপিএল তো আছেই, আর তার সাথে যখন কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের কথাও উঠলো তখন সত্যি নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এই ধরনের অনুভূতি আগে খুব কমই হয়েছে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আশরাফুলের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়েও তদন্ত করেছে আকসু। এর মধ্যে একটি ম্যাচ আবার মুশফিকের অধিনায়কত্বেই অনুষ্ঠিত হয়। আট বছর একসাথে জাতীয় দলে খেললেও স্পট ফিক্সিংয়ে আশরাফুলের সম্পৃক্ততার কথা জানা ছিল না মুশফিকের। দোষ প্রমাণিত হলে আশরাফুলের কঠোর শাস্তির দাবি জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমরা অনেকদিন একসাথে খেলেছি। কিন্তু কখনওই বুঝতে পারিনি যে এমন কাজের সাথে সে জড়িত। মাশরাফি ভাইও তার সাথে একই রুমে থেকেছেন। দোষ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে শাস্তি দেয়া উচিত। এর ফলে তরুণ ক্রিকেটাররা বুঝতে পারবেন এটা কতো বড় পাপ। যতো বড় বা ছোট খেলোয়াড়ই হোক না কেন, কেউই দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবে না।’ তবে সবকিছুর পরেও আশরাফুলকে আবারও ক্রিকেটে দেখতে চান মুশফিক। তিনি জানান, আবার সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই আশরাফুলকে অভিনন্দন জানাবেন, ‘আশা করি তিনি (আশরাফুল) আবারও ক্রিকেটে ফিরবেন।’ আশরাফুল সমর্থকদেরও হয়তো এমনটাই চাওয়া!