ট্রেনে নাশকতা রোধে ‘লালসালু’ বাহিনী

ট্রেনে নাশকতা রোধে এবার স্টেশনগুলোতে ‘লালসালু’ বাহিনী মাঠে নেমেছে। এরা গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) সঙ্গে কাজ করছে। এরা আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কি না তা দেখার জন্য রেলওয়ের রেঞ্জের আরএসবি (রেলওয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কাজ করছে। ইতিমধ্যে কমলাপুর, তেজগাঁও, বিমানবন্দর, টঙ্গী ও জয়দেবপুর রেলস্টেশনে নিরাপত্তার জন্য আড়াইশ সদস্যের লালসালু বাহিনী কাজ করছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি সোহরাব হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময় ট্রেনের নাশকতার ঘটনাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রেলওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে এখন রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিট আরএসবি কাজ করছে। পুলিশের রেলওয়ে রেঞ্জের একটি সূত্র জানায়, লালুসালু বাহিনীর কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে এদের কার্যক্রম চালানো হবে। সম্প্রতি বিরোধীদলের ডাকা হরতালের দিন ট্রেন ও স্টেশনে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গত ২ মার্চ রাজশাহী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ২টি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর দুইদিন পর কমলাপুর রেলস্টেশনে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কুমিল্লায় রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলায় মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৫টি বগি উল্টে যায়। কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম স্টেশনে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ৫টি বগিতেও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃর্ত্তা। পুলিশের রেলওয়ে রেঞ্জের একজন কর্মকর্তা জানান, ট্রেনের বগিতে আগুন দেয়ার পর দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি লালসালু নামে একটি বাহিনীকে বিভিন্ন স্টেশনে নামানো হয়েছে। এদিকে রেলওয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিট আরএসবির একজন কর্মকর্তা জানান, বড় বড় স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের প্রবেশ পথে আর্চওয়ে গেট বসানো হবে। সন্দেহ হলে যাত্রীদের মালামাল ও শরীর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। বর্তমানে কমলাপুর রেলস্টেশনে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনের মধ্যে বিমানবন্দর, আখাউড়া, জয়দেবপুর, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পার্বতীপুর, শান্তাহার, ঈশ্বরদী, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পোড়াদহ, যশোর ও খুলনা রেলস্টেশনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যাত্রীদের হয়রানি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ রোধ করতে রেলওয়ের আরএসবি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এই গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা সাদা পোশাকে আন্তঃনগর ট্রেনে দায়িত্ব পালন করবেন। তার পাশাপাশি পুলিশ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে কি না তাও এই ইউনিট পর্যবেক্ষণ করবে। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে লালসালু বাহিনীর সদস্যদের পরনে লাল রঙের শার্ট ও প্যান্ট। এদের পরনে লাল রঙের পোশাক বলে এদের লালসালু বাহিনী বলে ডাকা হচ্ছে। এরা যেকোন ট্রেন স্টেশনে আসা মাত্রই প্রতিটি বগির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। তারা পর্যবেক্ষণ করে কেউ বগিতে আগুন দিচ্ছে কি না। ঐ রেলস্টেশন এলাকার আশপাশের লোক নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়েছে।