বুয়েট শিক্ষকসহ ৭২ শিক্ষার্থী জঙ্গি সন্দেহে আটক

জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীর ওয়ারীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১ জন বুয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্র। অন্যরা নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। এর মধ্যে মামলা দায়ের করে বুয়েটের ১০ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখিয়ে এক দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যে ১০ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয় তারা হলেন জুলহাস বিশ্বাস (২৪), ইদ্রিস (২২), সুজাজিত হোসেন (২২), শহীদুল ইসলাম (২১), দেওয়ান কামরুল (২২), জামিলুর ইসলাম (২৪), সামিউল শহীদ (২৩), নাইমুল আরিফ (২২), মজিবুল হোসেন (২৩) ও রবিউল ইসলাম (২৩)। আটক শিক্ষক প্রভাষক আলী নাঈম ও প্রতিষ্ঠানটির ৫১ শিক্ষার্থীকে বৃহস্পতিবার রাতেই মুচলেকা দিয়ে ওয়ারী থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বুয়েটের রেজিস্ট্রার ড. একেএম মাসুদ। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আটক ১১ শিক্ষার্থীকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা থেকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস শরীফ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ওয়ারীর স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে বুয়েটের ওই শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সহকারী কমিশনার শাহেদ মিয়া জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ারীর বিসিসি রোডের ওই রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আলী নাঈমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২ শিক্ষার্থীকে আটক করে। বুয়েটের রেজিস্ট্রার একেএম মাসুদ ইত্তেফাককে জানান, রাতে পুলিশ তাদের কাছে বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আটক হওয়ার খবর দেয়। পুলিশ বুয়েটে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তাকে ওয়ারী থানায় নিয়ে যায়। পরে যাচাই-বাছাই করার পর শিক্ষকসহ ৫১ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়। ঘটনাটি বুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে বলেই এ বিষয়ে পুলিশই আইনগত ব্যবস্থা নেবে। মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা ৫১ জনকে বুয়েট কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রচলিত আইনেই বিচার হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন উপ-কমিশনার জানিয়েছেন, বুয়েটের ওই শিক্ষকের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর-এর বিকল্প একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন করার জন্য শিক্ষার্থীরা ওই হোটেলে মিলিত হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া ১০ শিক্ষার্থী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কাছে এমনই তথ্য দিয়েছেন। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বুয়েটের ওই শিক্ষকের টার্গেট ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষকের সঙ্গে হিযবুত তাহরীরের অনেক নেতার যোগাযোগ রয়েছে। তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ভার বুয়েট কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।