বরিশাল ও রাজশাহীতে নিরাপত্তা জোরদার
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৪৮
বরিশাল অফিস জানায়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫টি বাহিনীর মোট ৪ হাজার সদস্য মোতায়েনের কথা থাকলেও মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের চেয়ে ৫ শতাধিক সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে মোট সাড়ে ৪ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন।
গতকাল শুক্রবার তিনি ইত্তেফাককে জানান, নির্বাচনের দিন মহানগরীর ১শ’টি ভোট কেন্দ্রের পাশাপাশি ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। মোতায়েন করা ৫টি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ২ হাজার পুলিশ, ১৪শ’ আনসার, ৯৫০ র্যাব, ৪ প্লাটুন (১শ’জন) বিজিবি ও ২ প্লাটুন (৫০ জন) কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা থাকবে ভোট কেন্দ্রে।
মহানগরীতে মোট ১শ’ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪০টি সাধারণ ভোট কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন ও সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে ৫ জন পুলিশের একটি টিম থাকবে। এছাড়া ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট’র নেতৃত্বে ৩৫টি টিম নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীতে ৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর প্রবেশপথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া নগরীতে সাইরেন বাজিয়ে টহল দিচ্ছে র্যাব সদস্যরাও। এদিকে নগরীর মোড়ে মোড়ে যানবাহন ও মোটর সাইকেলের কাগজপত্র তল্লাশি করা হচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নগরীতে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীজুড়ে পুলিশী তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রিটার্নিং অফিসার আরো বলেন, প্রার্থীদের যেসব অভিযোগ ছিল সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের ১৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন অফিস জানায়, নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত গভ. ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্র ইভিএম-এ ভোট নেয়া হবে বলে জানান, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বুলবুলের অভিযোগ, লিটনের জবাব
এদিকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেছেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদায় আসেন এবং সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বি একজন মেয়র প্রার্থী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিকালে রাজশাহী নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পুলিশ একাডেমী সারদায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বিধিবদ্ধ সরকারি কর্মসূচি। বছরে একবার সেখানে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এবং ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করেন। এছাড়া নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সারদায় আসার প্রয়োজন নেই। ঢাকায় বসেই তা আরো ভালমত করা সম্ভব।