শেষ মুহূর্তে ৪ সিটিতে ব্যাপক ধরপাকড়
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
চার সিটি নির্বাচনের আগে গতকাল শুক্রবার ব্যাপক ধরপাকড় করেছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ ও টাকা বিলির অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করার তথ্য স্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। তবে বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতংক ছড়ানোর জন্য আটক-গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত রাজশাহীতে ৩০ জন, খুলনায় ১৫ জন, সিলেটে দশ জন এবং বরিশালে ২৫ জনকে আটকের সংবাদ পাওয়া গেছে।
গতকাল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে র্যাব। এ প্রসঙ্গে র্যাব-৫ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় কাউকে আটক করা হয়নি। বিএনপি নেতারা আটকের সংখ্যা ৩০ এর বেশি বলে দাবি করেছেন। বিরোধী দল সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, আটকের বিষয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং আতংক না ছড়াতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি। রাজশাহীর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ করেন।
আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, সিটি এলাকা থেকে দশজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃদের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি।
বরিশাল অফিস জানায়, গতকাল বরিশালের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫ জনকে আটক করেছে র্যাবসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কামাল হোসেন ওরফে ফাঁসি কামালের কর্মী মনিরকে ২৫ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল সাংবাদিক সম্মেলন করে আইন - শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা কমিয়ে ভোট কেন্দ্র বার রাতে র্যাব কাউনিয়া এলাকা থেকে বিএনপি নেতা বাবলা এবং করিম কুটির থেকে আল-আমিনকে আটক করে। র্যাবের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকায় অধিকাংশ বিএনপি নেতা-কর্মী গা - ঢাকা দিয়েছে। বিএনপি’র কর্মী সমর্থকদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বটতলাস্থ বাসভবনে কয়েক দফায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব ও পুলিশ। আলাল জানান- রাতে তিন দফায় র্যাব ও পুলিশ গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বরিশাল ত্যাগ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
বরিশালের বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চান অভিযোগ করেন, বিএনপির সমর্থক নেতা-কর্মীদের ব্যাপকহারে আটক করা হচ্ছে। আতংক ছড়িয়ে পড়েছে সকলের মধ্যে। আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং অন্যদের হয়রানি না করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। বিএনপির অন্তত ২৫ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন। খুলনা অফিস জানায়, খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। খুলনার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু আটককৃতদের মুক্তি দাবি করে হয়রানি ও আতংক না ছড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।