শান্তিপূর্ণ ভোটের আশা কামরানের, আরিফের আশংকা কারচুপির
নিজামুল হক ও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সিলেট থেকে
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
সিলেট নগরীর ভোটাররা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। শুধু ভোট কেন্দ্রে যাবার অপেক্ষা। ভোট কাকে দেবেন এ বিষয়ে অনেকে সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ এখনও হিসাব কষছেন কাকে ভোট দেবেন। তবে ভোটারদের ক্ষুদ্র একটি অংশ আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ। তাই মাঠে নেই প্রার্থীরা। উত্সবমুখর পরিবেশ রয়েছে সিলেট নগরীতে। জুমার নামাজ শেষে দলবদ্ধ হয়ে ভোটাররা আলোচনা করছেন নির্বাচন নিয়েই।
গতকাল শুক্রবার নিজ বাসায় দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটিয়েছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থী। ১৮ দলের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী জুমার নামাজ পড়েছেন নিজ মহল্লা কুমারপাড়া মসজিদে। পরে পার্শ্ববর্তী হযরত মানিকপীর (র:) এর গোরস্থানে গিয়ে জিয়ারত করেন তিনি। তখন বিপুল সংখ্যক লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। নামাজের আগে তিনি পুরোটা সময়ই কুমারপাড়াস্থ নিজ বাসায় অবস্থান করেন। বাসার ভেতরে ও বাইরে ছিল প্রচুরসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের ভিড়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহজালাল (র:)-এর মাজার জিয়ারত করেন। ভোট কারচুপির আশংকা প্রকাশ করে আরিফুল হক চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেছেন, কামরানের কর্মীরা ভোট কেন্দে গিয়ে যেকোন অজুহাতে গোলমাল বাধিয়ে ভোট কারচুপি করবেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কোন সদস্য নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে ১৪ দলের সমর্থিত বদর উদ্দিন কামরানও গতকাল সকাল থেকে ছড়ারপারের নিজ বাসায় অবস্থান করেন। এ সময় তার বাসার সামনে প্রচুরসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের ভিড় দেখা গেছে। কামরান নগরীর শেখঘাট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন। গতকাল জুমার নামাজের পূর্বে কামরান হযরত শাহ পরান (র:) মাজার জিয়ারত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনিও হযরত শাহজালাল (র:) মাজার, গাজী বোরহান উদ্দিন মাজার এবং মানিকপীর (র:) এর গোরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। তিনি নগরীর কানিশাইলে একটি ধর্মীয় এবং পাঠানটুলায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কামরান ইত্তেফাককে বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। আশা করছি, সিলেট নগরবাসী উত্সবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের আগামীর প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
একটি ভোট কেন্দ্র বেড়েছে: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১২৭টি। বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার মমিন খোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভোট কেন্দ্র বাড়ানো হয়। উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে এ ভোট কেন্দ্র বাড়ানো হয় বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়। এর ফলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্র গিয়ে দাঁড়ায় ১২৮টিতে।
টাকা ছড়ানোর অভিযোগ নেই-তবুও: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থী কেউ কারো বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ করেননি। এ কারণে কেউ কারো বিরুদ্ধে এ বিষয়ে গুরুতর কোন অভিযোগ তোলেননি। তবে ভোটাররা বলছেন, দুই মেয়রের পক্ষ থেকেই কম বেশি টাকা ছড়ানো হচ্ছে। এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থী যে যার এলাকার বস্তিতে টাকা বিলিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছেন। সিলেট নগরীতে বেশকিছু বস্তি রয়েছে।
নির্বাচনে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয়: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরাপত্তা বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিন গতকাল বিকালে ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের দিন চার স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। চার স্তরের নিরাপত্তায় কেন্দ্র ভিত্তিক ২৫ জন, স্ট্রাইকিং, মোবাইল টিম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ টিমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া কর্মকর্তাদের বিশেষ টিমের তদারকি থাকবে।
একটি কেন্দ্রে ইভিএম: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ নং ওয়ার্ডে একটি ভোট কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা যাতে ইভিএম সম্পর্কে বুঝতে পারেন এজন্য ইতিমধ্যে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।