বাজারে ইলিশ কিনলেন লিটন, বাড়িতেই সারাদিন বুলবুল

দীর্ঘ প্রচারণা শেষে ক্লান্ত দু’জনই। তারপরও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রচারণায়ও যেতে পারছেন না। বিধিনিষেধ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং বিএনপি সমর্থিত মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল শুক্রবার একরকম অলস সময় কাটিয়েছেন। গত ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ১৩ জুন গভীর রাত পর্যন্ত তারা নির্বাচনী ৯৬.৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকার ১৩৭টি মহল্লা চষে বেরিয়েছেন। যাওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রতিটি ঘরে। দলীয় ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার উপ-শহরের বাসা থেকে রিকশায় করে নগরীর সাহেব বাজারে আসেন। সাহেব বাজার মাছ বাজার থেকে তিনি বাসার জন্য ইলিশ মাছ কেনেন। মাছগুলো বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি নগরীর কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দুপুরে তিনি নগরীর শাহ্ মখদুম দরগা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। সেখানে তার সঙ্গে পাশাপাশি জুম্মার নামাজ আদায় করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুও। এ সময় পরস্পর বিরোধী এই দুই নেতাকে একসঙ্গে কথা বলতেও দেখা গেছে। নামাজ আদায় শেষে লিটন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল মনিরের মাতার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার সাগরপাড়ার বাসায় যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শান্ত্বনা দেন। সেখান থেকে সরাসরি পুনরায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বাসা থেকে আনা খাবার খান এবং বিশ্রাম নেন। নামাজ আদায় শেষে লিটন নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত-শিবির এবং হেফাজতকে সংযত রাখলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট। আর মিনু শুধু বলেন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে মনে হয়েছে আমাদের প্রার্থীই এগিয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল প্রায় সারাদিনই নিজের বাড়িতে ছিলেন। তিনি বাড়িতে বসে তার কর্মী এবং এজেন্টদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। দুই জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত উপ-শহর এলাকার বাসিন্দা। তাদের উভয়ের বাসার দূরত্ব সর্বোচ্চ দেড়শ’ গজের মতো। তারা উভয়ে আজ শনিবার সকালে নগরীর উপ-শহর সাটেলাইট টাউন হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোট দেবেন এবং এরপর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন বলে উভয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অপর মেয়র প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব (চশমা প্রতীক) পার্শ্ববর্তী ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার দড়িখরবোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সকালে ভোট প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।