খুলনায় তিন প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ২৩:০১
নির্বাচনের ঠিক ১৫ ঘণ্টা আগে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিন মেয়র প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। একে অপরকে বিষোদ্গার করলেন তারা। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তারা এই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, আইন অনুযায়ী তারা সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কোথাও লেখা নেই সাংবাদিক সম্মেলন করলে আচরণবিধি ভঙ্গ হয়। তাই এই সাংবাদিক সম্মেলন আচরণবিধি ভঙ্গের আওতায় পড়ে না।
গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর হাজী মুহসীন রোডে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একের পর এক আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ দেয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারের দফতরে গেলেও নানাভাবে আমাদেরকে নাজেহাল হতে হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বলেন, সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে।
অপরদিকে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ভৌতিক ও কাল্পনিক অভিযোগ করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই তারা একের পর এক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। এ সময় মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি মেনে আমার কর্মী-সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। খুলনায় অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। তিনি চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে তাকে আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য খুলনাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে একই স্থানে পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন-এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তালা এবং আনারস প্রতীকের প্রার্থীরা। কিন্তু জাপা সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি।