শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার দাবি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৩, ২০:১৩
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সেই সাথে রানা প্লাজায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৪৮ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল জাতীয় যাদুঘরের সামনে এক সমাবেশে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। এতে মূল বক্তব্য রাখেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম পথিক।
শ্রমিক নেতারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট একটা ঘরে গাদাগাদি করে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক থাকছে। দিনের পর দিন আলু ভর্তা, ডাল খেয়ে দিন পার করছে। এই অবস্থায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী শ্রমিকরা যে বেতন পায় তা দিয়ে মাসের ১০ দিনও চলে না।
সমপ্রতি রানা প্লাজা ধসের পর ১ হাজার ১২৯ জন শ্রমিক নিহত হয়। এর আগে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১২ জন নিহত হয়। এই ঘটনার পর শ্রমিকদের প্রতি মালিক পক্ষের অবহেলার চিত্র বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রচার পায়। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সমপ্রতি ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এর আগে ২০১০ সালে সর্বশেষ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১ হাজার ৬৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়।
সভায় নেতারা বলেন, রানা প্লাজা ভবন ধসে ১১২৯ জন শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আজ পর্যন্ত নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। লস অব আর্নিংয়ের হিসাব অনুযায়ী তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, বাহারানে সুলতান বাহার, তাসলিমা আক্তার, মীর মোফাজ্জল হোসেন, মাস্টার মোকলেছুর রহমান, তৈমুর খান অপু প্রমুখ। সমাবেশ শেষে তারা বিজিএমইএ অভিমুখে পদযাত্রা করেন।