শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই দেশের অর্থনীতির মোক্ষম হাতিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যায় সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দল একে অন্যের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পারে। হরতাল নামক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেশকে এক অনিশ্চিত পথে নিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের জনসাধারণের নিকট কোনভাবেই কাম্য নয়। পোশাক শিল্প খাত এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক আয়ের প্রায় ৭৮% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বর্তমানে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.০৩%, যা গত বছর ছিল ৬.৩২%। সুতরাং জিডিপির হার হ্রাসের জন্য বর্তমান অসুস্থ রাজনীতি অনেকাংশে দায়ী। এ বছরের বাজেটে জিডিপি ৭.২% ধরা হয়েছে, যা অর্জনের জন্য উভয় দলকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে যেমন বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিতে হবে, ঠিক তেমনি বিরোধী দলকে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার করে তাদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করতে হবে। উভয় দলের সদিচ্ছা ও সহানুভূতিই দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে পারে। দেশের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধনের জন্য সরকারি ও প্রধান বিরোধী দলকে মতৈক্যে পৌঁছানোই এখন সময়ের দাবি। মো. জসীম উদ্দিন আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করতে হবে পৃথিবীতে যত ধরনের লোভ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হচ্ছে ক্ষমতার লোভ। ক্ষমতার স্বাদ যে কখনো পায়নি সে ক্ষমতায় পাওয়ার লোভ করে। যে একবার পেয়েছে সে আরও বেশি লোভ করে। আর লোভে পাপ, পাপে বিনাশ এ কথা কে না জানে? মজার ব্যাপার হলো, আমাদের দেশে ক্ষমতার লোভ করে রাজনৈতিক নেতারা, পাপও করে তারাই। অথচ এর জন্য বিনাশ হয় সাধারণ জনগণের। বিরোধী দল হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য হরতাল দেয়, যে হরতালের ভুক্তভোগী হয় খেটে খাওয়া মানুষ, সাধারণ ছাত্র, ব্যবসায়ী। আর এ সবকিছু মিলে যেটা হয় তা হলো আমাদের রুগ্ন অর্থনীতি ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুর দিকে এগুতে থাকে। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন রাজনীতি একটা খেলা। দেশের জনগণ, সমাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে তারা ২/৩টি বড় বড় দল নিজেদের মধ্যে খেলেন। তাদের খেলার যোগান দিতে গিয়ে যে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যায়, সেটা তারা আমলেই নেন না। রাজনীতি যদি খেলাই হয়ে থাকে তাহলে তো খেলার স্বাভাবিক নিয়মে জয়-পরাজয় মেনে নেয়া উচিত। জিতলে সবকিছু ঠিকঠাক, আর হারলে জ্বালাও-পোড়াও এটা কি ধরনের কথা? খেলোয়াড়দের প্রতি অনুরোধ, ফলাফল যাই হোক মেনে নিন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি তথা আমাদের সবার উন্নতির জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। মিকসেতু মিঠু লেভেল-০২, টার্ম-০১ বিএসসি ইন ওয়েট প্রোসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। উচিত সংলাপে বসা ও সমঝোতায় আসা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্রের সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রম গণতান্ত্রিক উপায়েই পরিচালনা করা উচিত। কিন্তু বর্তমানে দেশের সরকার তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিতে নারাজ, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থি। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দলও তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন না দিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক। এই পরিস্থিতিতে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের উচিত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন। কিন্তু দেশের এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলাফল হিসেবে দেয়া হচ্ছে হরতাল, যার ফলে মারামারি, কাটাকাটি, হত্যা, ভাংচুরসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপন্থি। তাই এই সকল সমস্যা সমাধানে সকল রাজনৈতিক দলের উচিত সংলাপে বসা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঠিক সময়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা । মোঃ তরিকুল ইসলাম রিফাত কৃষি পরিষদ, ঈশা খাঁ হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সকলকে সহনশীল হতে হবে চলমান দেশের রাজনৈতিক অবস্থা দেশের জন্য এক বড় অভিশাপ। আর এরই ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরেও কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা তা সন্দেহাতীত। যেখানে ৭১-এর স্বাধীনতা বুকে ধরে গর্বে বুকটা ভরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে দেশের আজ এ বেহাল অবস্থা অনুন্নত দেশের পরিসংখ্যানের সাথে তুলনা করতে হচ্ছে। আর এর জন্য প্রধান কারণ হলো দেশপ্রেমীকতার অভাব। দেশের এই অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন পরিবারগুলো। অথচ তাদের কারণেই বাংলাদেশ আজ শিল্পখাতে উন্নতি লাভ করার প্রয়াস করতে পেরেছে। আমাদের এই সংকটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব। আর এ থেকে মুক্ত হতে হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে দেশের স্বার্থে, সাধারণ জনগণের কথা ভেবে প্রতিশোধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন দ্বারা সরকার প্রধানকে নির্বাচিত করতে হবে। তবেই রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের নিকট আস্থা ফিরে পাবে এবং গণতন্ত্রের আসল চরিত্র প্রকাশমান হবে। নতুবা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়ার কোন আশা থাকবে না। মো. রুকুনুজ্জামান তাহমিদ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (২য় বর্ষ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী।