দু’বছরের মধ্যে শক্তিশালী দলে পরিণত হবে বাংলাদেশ-মুশফিক

জাতীয় দলকে ছয়মাস ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। এই সময়টাতে অনেক উত্থান-পতন ঘটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। সর্বশেষ স্পট ফিক্সিংয়ের মত কালো অধ্যায়ও দেখেছে দেশের ক্রিকেট। তবুও পেছনের সাফল্যের কথা ভেবে একটু স্বস্তি পাচ্ছেন মুশফিক। ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশ ক্রিকেট ও নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তারই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল- গত ছয় মাসে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিতে কেমন লাগল? আমার জন্য বেশ খারাপ সময় গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের জয় দিয়ে শুরু করেছিলাম। শ্রীলংকা সফরে অনেক ভালো খেলোয়াড় ছিল না তবুও আমরা লড়ে গেছি। জিম্বাবুয়ে কন্ডিশন একটা সমস্যা ছিল বিশেষ করে প্রথম টেস্টে। দ্বিতীয় টেস্টে সেখান থেকে ফিরে এসেছি। ওয়ানডে সিরিজেও আমাদের কন্ডিশনের সাথে লড়তে হয়েছে। সাথে যোগ হয়েছিল কিছু প্রধান খেলোয়াড়ের ইনজুরি, যেমন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। জিম্বাবুয়ের মাটিতে আসলে আমাদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। অতীতের তুলনায় গত মার্চে শ্রীলংকা সফরের পার্থক্যটা কি মনে হচ্ছে? সফরের শুরুতে ড্রেসিং রুমে আমরা একটু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। কারণ শ্রীলংকা চাইবে আমাদের উপরে আধিপত্য করতে। দলের প্রতি আমার চেষ্টা ছিল যে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। জিতি বা হারি; আমরা শুধু চেয়েছি পাঁচদিন প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুলতে। খেলোয়াড়রা সেই পরিকল্পনা মতো কাজ করেছে বলে আমিও খুশি। প্রতিটি সেশন শেষে খেলোয়াড়দের সেই লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছি। কোচ ও আমি সবসময় বলে এসেছি দল ভালো করছে। ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশিরা একটু বেশি আবেগী? অবশ্যই। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই এটা চলে আসছে। পাকিস্তানীরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আক্রমণ করেছিল কিন্তু আমরা যুদ্ধ করে জিতেছি। ক্রিকেটও এই ধরনের আবেগ দিয়ে খেলা উচিত। অন্যথায় আপনি জিততে পারবেন না। তবে এটার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। ২০০৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন কি এসেছে? যখন বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলি তখন লোকজন ভাবে আমরা হেরে যাব। এখন যখন বাংলাদেশ খেলে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত কেউ বলতে পারে না কি ঘটতে যাচ্ছে। সেটা অস্ট্রেলিয়া কিংবা আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোক। আমাদের মানসিকতা হচ্ছে এখন আমরা কঠিন ক্রিকেট খেলি। এটাই বড় পরিবর্তন। আমরা বিশ্বাস করি যে কাউকে আমরা হারাতে পারি। আরেকটি পরিবর্তন আছে, এখন দলে অনেক ধারাবাহিক পারফর্মার রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ শক্তিশালী দলে পরিণত হবে।