হাজারো অবৈধ বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে বন্দরনগরী
শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৩, ২৩:১৮
হাজার হাজার অবৈধ বিলবোর্ডের ভারে চট্টগ্রাম মহানগরীর এখন বেহাল দশা। ফুটপাত, রাস্তার ডিভাইডার, পাহাড়ের গায়ে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অসংখ্য বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডগুলো আলো-বাতাস চলাচলে বাধা দেয়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যহানি ঘটাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়সহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিলবোর্ড ভেঙে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। গত বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময় চট্টগ্রামকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছিল নগর প্রশাসন। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন মোড়ে মনোরম ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। টাইগার পাস মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল বাঘের ভাস্কর্য। অবৈধ বিলবোর্ডের ভিড়ে টাইগারপাসের বাঘগুলোকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পোর্ট কানেকটিং রোডে স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহূত জঙ্গি বিমানের রেপ্লিকাও হারিয়ে গেছে বিলবোর্ডের আড়ালে। নগরীর সৌন্দর্যহানি ছাড়াও অবৈধ বিলবোর্ডের কারণে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে।
নগরীর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকার বৈধ-অবৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি হলেও সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত বিলবোর্ড সংখ্যা পাঁচ হাজারের মত। বর্তমানে এ খাতে প্রতি বছর কর্পোরেশনের দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা আয় হয়। অথচ বৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা হলে এ খাতে সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আয় কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরী জুড়ে অবৈধ বিলবোর্ডের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে দুই প্রধান দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নেতারা। সিটি কর্পোরেশনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই রাতারাতি তারা বিলবোর্ড লাগানোর কাজ সারে। দলের পরিচয় ব্যবহার করার কারণে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে বিপাকে পড়তে হয় সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। সমপ্রতি নগরীর দেওয়ান হাট থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত ডিটি রোড সমপ্রসারণের কাজ শেষ হতে না হতেই সেখানে দখল বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে অবৈধ বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরা। এসব বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেও তাতে কোন লাভ হয়নি।
সমপ্রতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ওয়ার্ডভিত্তিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হলেও এ কমিটি অবৈধ বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। প্রতিরোধ কমিটি গঠনের এক মাসের মধ্যেই বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে পড়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর জিইসি মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা কর্পোরেশনের চারটি গাড়ি ভাংচুর ও শ্রমিকদের মারধর করে। বাধার মুখে তড়িঘড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরীন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন মামলা করা হয়নি। থানায় জিডি করেই দায় সারা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এ নমনীয় পদক্ষেপ চট্টগ্রামে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।