ভোট নিয়ে রাজশাহীতে কোন অভিযোগ নেই

রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপি সমর্থিত মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কেউই বড় কোন কারচুপির অভিযোগ করেননি। কেন্দ্র দখল বা পোলিং এজেন্টদের কেন্দ থেকে বের করে দেয়ার মতো কোন অভিযোগ আসেনি এই দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে। তবে উত্তাপ-উত্তেজনা ছিল দিনভর। ভোট গ্রহণ শেষে বিকাল ৫টার দিকে ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বুলবুল বলেন, ভোটের আগের রাতে ব্যাপক হারে কালো টাকা ছড়িয়েছে প্রতিপক্ষ প্রার্থী। এছাড়া প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন তিনি। অনেক নেতাকর্মীকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নির্বাচনের একদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থী। তবে সার্বিক ভোটগ্রহণ নিয়ে খুব একটা অসন্তোষ ছিল না তার। শুধু নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার একটি কেন্দ্রের বাইরে লিটন ও বুলবুলের সমর্থকদের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার এস এম মনি-উজ-জামান সেখানে হাজির হন। তার নির্দেশে দ্রুত ওই এলাকা থেকে সবাইকে সরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় একজন আহত হন, একজনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও দুইটি কেন্দ্রে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকাল ১০টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গাতে পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজশাহীতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শুধু এই ছোট্ট সমস্যার কথা শুনে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন। রাজশাহীর রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারও বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষে বলেছেন, রাজশাহীতে যেভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে তা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ কেউ কোন অভিযোগই করেননি। এছাড়া অবৈধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে রাজশাহীতে প্রবেশের সময় দুইজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকাল ৯টায় নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডিঙ্গা ডোবা এলাকার নিউ রেনেসা একাডেমীতে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ভোট গ্রহণ শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় ১ হাজার ৩২৫ জন ভোটারের ১২০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার মনিরুল ইসলাম। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বুলবুলের পোলিং এজেন্ট খাদিজা তুন কোবরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ চলছে। তাদের কোন অভিযোগ নেই। সকাল ১০টার দিকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল ২ হাজার ৩০৪ জন ভোটারের ৩শ’ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। বেলা ১২টার দিকে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বুথপাড়া এলাকার শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। প্রায় ২২শ’ ভোটারের মধ্যে প্রথম চার ঘণ্টায় ৭০০-র বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার জিল্লুর রহমান। এখানে বুলবুলের পোলিং এজেন্ট মুসলিমা বেগম বলেন, ভোট গ্রহণ নিয়ে তার কোন অভিযোগ নেই। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে। এর আগে সকাল ৮টায় ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৪টায়। শুরুতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও পরে পুরুষদের উপস্থিতি বাড়ে। ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৭ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ এবং নারী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২২ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ডে যথাক্রমে ৬৭ ও ১৫৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বুলবুল ও কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনুকে নগরীর দাশমাড়ি সাতবাড়িয়া স্কুল কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মিজানুর রহমান মিনু ওই কেন্দ্রের ভোটার নন। তিনি পর্যবেক্ষকও নন। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মিজানুর রহমান মিনুকে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। কিন্তু মিনুকে ছাড়া কিছুতেই বুলবুল কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে চাননি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তারা ভোট কেন্দ্রে না ঢুকেই ফিরে যান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামিয়া কলেজ ভোট কেন্দ্রের মোট ভোটার ২ হাজার ৯৪ জন। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শরিফ উদ্দিন। কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বেলা ২টার দিকে ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার একেএম শামসুল আলম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রগুলোতে রাবি শিবির সভাপতির নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু শিবির নেতাকর্মী শো-ডাউন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইভিএম নিয়ে কোন অভিযোগ নেই লক্ষ্মীপুরে ল্যাবরেটরি স্কুলে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে অশীতিপর বৃদ্ধা নুরুন্নাহার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, খুব সহজেই এতে ভোট দেয়া যায়। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এই বৃদ্ধ বয়সে এসে নতুন পদ্ধতিতে ভোট দিতে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতে এত সহজেই ভোট দেয়া যায় যে, সব কেন্দ্রেই এই সিস্টেম করা উচিত। রাজশাহী কলেজের ছাত্রী ইসমত আরা বলেন, ইভিএমে ভোট দেয়াই অনেক সহজ। তিনি বলেন, এত সহজে ভোট দেয়া যায় আগে ভাবিনি, এক টিপে কাজ শেষ। ভোট দিতে এলাম আর শেষ হয়ে গেল, ভালোই তো! হাবিবুর রহমানের কোন পোলিং এজেন্ট নেই রাজশাহীতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাইরে হাবিবুর রহমান নামে একজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে রাজশাহীর কোন কেন্দ্রে গিয়ে তার কোন পোলিং এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি নির্বাচন দেখতে কোন্ কোন্ এলাকায় ঘুরেছেন তাও কেউ বলতে পারেনি।