‘মেশিনি তিনডে চাপ দিয়ে আসলাম আর গেলাম’
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৩, ২৩:২৩
খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। খালিশপুরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দে ৬ হাজার ২৩৭ জনের ভোট নেয়া হয় ইভিএমে। ভোটদান শেষে সাধারণ ভোটার ফাতেমা ইত্তেফাককে জানান, ‘ভাই খুব সহজ, মেশিনি তিনডে চাপ দিয়ে আসলাম আর গেলাম। আগে প্রতীক সিল মেরেছি এবার বোতাম টিপলাম’। অনেকের কাছে ইভিএম সহজ মনে হলেও কিছু ভোটার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন।
কলেজ পড়ুয়া সাবিনা ইয়াসমিন এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি জানালেন, ইভিএম সিস্টেমে ভোট দিতিতো ভালই লাগলো। জীবনে প্রথম ভোট দিতে পেরে তিনি বেজায় খুশি। চল্লিশোর্ধ ফারহানা আক্তার একজন গৃহিণী। তিনি খুব বিরক্তির সাথে বললেন, সুইস চাপাচাপি অলো জম্মের ঝামেলা। ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মো. ইয়াসিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সহজ মনে হলো। বোতাম টিপলাম আর ভোট দেয়া হয়ে গেলো।’
প্রিজাইডিং অফিসার মহসিন মিঞা জানান, ভোটারদের কাছে এটি নতুন পদ্ধতি। অজ্ঞতার কারণে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে সে ব্যাপারে আমরা তাদের বুঝিয়ে দিয়ে তা নিরসন করতে পারছি।
ভোট দিয়ে যাওয়ার সময় মুকুল বেগম, গোলাপী রানী রায়, সামি আক্তারসহ কয়েকজন মহিলার কাছে ইভিএমের ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, কম্পিউটারে ভোট দিয়েছি। কোনও সমস্যা হয়নি।
অনুরূপভাবে ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরুষের কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেও ভোটারদের মধ্যে ইভিএম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইলিয়াস মুন্সি নামে এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা একজন শ্রমিক বললেন ভিন্ন কথা। তার কথা হলো ‘ভোট দিতে আইসে মার্কায় সিল মাইরে চলে যাব। কিন্তু তা না, সুইস-মুইস চাপাচাপি। কোন জাগায় কি গেল না গেল ঠিক পালাম না।’ ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে কোথাও কোনও অভিযোগ পাইনি। এখনও পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
মোট ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্লাটিনাম জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, খুলনা বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং জুটমিল আলীম মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং কেন্দ্র।
২০১০ সালে প্রথম নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে। এরপর নারায়ণগঞ্জে আংশিক, কুমিল্লায় পুরোপুরি ও রংপুর সিটিতে আংশিক ইভিএম ব্যবহার করা হয়।