সংসদ উত্তপ্ত হবে চার সিটি নির্বাচন নিয়ে

দুইদিন বিরতির পর আজ রবিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আবার বসছে। বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে নিয়ে আজ সংসদ উত্তপ্ত হতে পারে। বিরোধী দল অধিবেশন শুরুর পরই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবে। আজ হচ্ছে চলতি অধিবেশনের দশম কার্যদিবস। গত মঙ্গলবার অর্থাত্ সপ্তম কার্যদিবস থেকে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে গত সোমবার রাতে। বিরোধী দল বুধবার সংসদে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছিল। সরকার দলের পক্ষ থেকে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছিল, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। আবার বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। বিরোধী দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের প্রার্থী বিজয়ী হলে টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। কিন্তু তারা পরাজিত হলেই কারচুপি ও সরকার হস্তক্ষেপ করেছে এমন কথা বলে। তাদের অভিযোগ যে শুধু বিরোধিতার কারণে সেটি পরিষ্কার। বিরোধী দলের সূত্র জানায়, চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি হয়েছে তা আজ সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তুলে ধরা হবে। কেননা আগে থেকেই বিরোধী দল সংসদে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথা বলে আসছে। প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা হলেও সংসদে এ নিয়ে দুই-একটি মন্তব্য ছাড়া বিস্তারিত তেমন কোন কথা হচ্ছে না। বিরোধী দলের দিক থেকে বাজেটের পরিবর্তে সরকারের সমালোচনাসহ নিজেদের গুণকীর্তন চলে। অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বারবার সতর্ক করার পর এ প্রবণতা থামছে না। অপরদিকে সরকারদলীয় সদস্যরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলের দিক থেকে যেসব কথা বলা হয় তার পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। প্রায়ই ‘অসংসদীয় ও অশ্লীল’ ভাষা এক্সপাঞ্জ করার দাবি করা হয়। জাতীয় নেতা যারা জীবিত নেই, তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিষোদগার করে বিরোধী দলের দিক থেকে বক্তব্য রাখার কারণে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। কিন্তু সরকারদলীয় সদস্যদের পাল্টা জবাবে বিরোধী দল প্রতীকী ওয়াকআউট করে।