‘ঘরণী’র ঘরণীরা

ঘরণীর প্রতিষ্ঠাতা পপি রহমান। ছোটবেলা থেকেই গঠনমূলক সামাজিক কাজের সাথে জড়িত থাকার ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে স্বামীর সহযোগিতায় পড়াশোনা সম্পন্ন করে তার ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যান। নোয়াখালীতে নিজেদের বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’র আঞ্চলিক অফিস থাকার সুবাদে তার ইচ্ছাকে আরো উত্সাহিত করেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আবু নাসের খান। তার পরামর্শে তিনি অংশগ্রহণ করেন ‘উজ্জীবন প্রশিক্ষণে’। এরপর তার মাঝে সৃষ্টি হয় নব প্রেরণা আর এগিয়ে যাওয়ার উত্সাহ । তারই পথ ধরে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে নারী উন্নয়ন সংগঠন ঘরণী। মাত্র ছয় হাজার টাকা মূলধন নিয়ে শুরু করা এ সংগঠনটির বর্তমান পুঁজি দাঁড়িয়েছে ছয় লক্ষ টাকায়। এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও অধিক নারী বিভিন্ন বিষয়ে এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে তিনজন বেতনভুক্ত কর্মচারী আছেন এবং চুয়ান্ন জন স্বল্পকালীন কাজের ভিত্তিতে নিয়োজিত আছেন। তবে প্রথমাবস্থায় মোটেই এমন সহজাবস্থা ছিল না। বরং সামাজিক বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। তবু তিনি পিছপা হননি। হতদরিদ্র কিশোরী, নারীদের বুঝাতে লাগলেন যে ব্যক্তির চেষ্টা আছে তা দিয়েই সে তার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। আত্মশক্তি মানুষকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে পারে। এক সময় তার প্রতি মেয়েরা বিশ্বাসযোগ্য হয়। তাদের অভিবাবকরাও আগ্রহী হয়। এভাবে ধীরে ধীরে তার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী তরুণী ও নারীরা প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। এখানে নকশি কাঁথা, ব্লক বাটিকের কাপড়, থ্রী পিস, আচার, সস, মোমের শো পিস, এম্ব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সহায়তার জন্যে রয়েছে ঋণের সুবিধা। ঘরণীর এ কাজগুলো ছাড়াও নারীদের বিভিন্ন বিষয়ের আইনগত সহায়তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ও অন্যান্য বিষয়ের সচেতনতার জন্যে কাজ করে থাকে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পপি তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনায় ঘরণীকে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়,তার সাথে সমাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার আশা পোষণ করেছেন।