নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলেন আরিফুল হক চৌধুরী। ভোটাররা ভোট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন নতুন নগরপিতাকে কি করতে হবে-পর্যটন শহর সিলেটে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সরকার আমলে কি আরিফুল হক নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন। তাকে এখন থেকেই মোকাবেলা করতে হবে বেশকিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ। এবার নির্বাচনে আরিফুল হক যেসব কারণে নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে তার কর্মী সমর্থকরা পরিবর্তনের শ্লোগানটা বেশ জোরালো কণ্ঠেই তুলে ধরতে পেরেছিলেন। তারা নগরবাসীকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, আরিফুল হক সত্যিকার অর্থে সিলেট নগরীকে একটি পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে চান। নগরীর বুকচিরে যে ৯টি ছড়া বা খাল রয়েছে তা সংস্কার করে লেক তৈরি করবেন আরিফ। এতে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। এ জাতীয় বেশকিছু কথা মানুষের মনে গেঁথেছে। মানুষও আশাবাদী হয়ে উঠেন এ কারণে-আরিফুল হক চৌধুরী যখন সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তখন এই নগরীতে তিনি বেশকিছু কাজ করেছেন, যা দৃশ্যমান। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। সে সময় আরিফের সবচেয়ে বেশি সুবিধা ছিল অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মত একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন তার পাশে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ ও আধ্যাত্মিক এই নগরীর উন্নয়নের জন্য সাইফুর রহমান ছিলেন যথেষ্ট আন্তরিক। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন, শিক্ষাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিরল ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সাইফুর রহমান নিজেও নগরীর অন্তর্ভুক্ত সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি ছিল সিলেটকে একটি মডেল নগরী হিসাবে গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্যে তখন আরিফের হাত দিয়ে সাইফুর রহমান কাজ শুরু করেন। যৌথ প্রচেষ্টায় সিলেট নগরীতে তখন থেকেই পরিবর্তনের ঢেউ লাগে। সিলেট ভিআইপি সার্কিট হাউজের সামনে সুরমার তীরের সৌন্দর্য বর্ধন কাজ, নগরীর রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ, ফোয়ারা নির্মাণ, সার্কিট হাউজ-স্টেডিয়াম-মাদ্রাসা-আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কসহ বেশকিছু কাজ হয় তখন। পরে সরকার পরিবর্তন হলে আর সে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। মূলত এসবের জন্য সিলেট তথা সারা দেশের মানুষের মধ্যেও অনেকটা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়, যার ফলশ্রুতিতে আরিফুলের আজকের বিজয়। নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ফলাফল ঘোষণার পর সাড়ে ১২টায় তার বাসভবনে আরিফুল হক চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘নগরবাসী যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ, আমি অভিভূত।’ এক প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এমনটাই হবে আশা করেছিলাম।’ তিনি আরো জানান, জনগণ তার প্রতি যে ভালোবাসা দিয়েছেন-তার মূল্যায়ন করবেন তিনি অবশ্যই। আরিফুল বলেন, সিলেট নগরীর উন্নয়নে এম সাইফুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ্। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই। এ সময় তার ঝর্ণার পারস্থ বাসায় মানুষে ছিল ঠাসা। কেউ তাকে নিয়ে ফটো তুলছিলেন আবার কেউ তার গলায় ফুলের মালা পরাচ্ছিলেন। কামরানের বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী রবিবার সকাল ১১টায় বদর উদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় এলাকার কৌতূহলী মানুষ দুজনকে একসাথে দেখতে ভিড় করেন। দেখা হওয়ার সাথে সাথেই কামরান আরিফকে জড়িয়ে ধরেন এবং মিষ্টিমুখ করান। সবশেষে আরিফ কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানের খোঁজ-খবর নেন। এ সময় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আরিফ আমার স্নেহভাজন ভাই। আমি তাকে সবসময় সহযোগিতা করব। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কামরান ভাই, আমার বড়ভাই। আশা করি বিগত সময়ের ন্যায় তাকে সবসময় কাছে পাবো। মন্ত্রী সুরঞ্জিতের সাথে কোলাকুলি সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ওসমানী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কোলাকুলি করেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাথে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে বিদায় জানাতে আরিফ সেখানে গিয়েছিলেন গতকাল দুপুরে ।