উলন গ্রিডে বিস্ফোরণ

গতকাল সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে বিদ্যুত্ ছিল না

রাজধানীতে গ্রিড বিপর্যয়ে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা একটানা অনেক স্থানে বিদ্যুত্ ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল রবিবার একাধিকবার বিদ্যুত্ বিভ্রাট হয়েছে। ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উলন গ্রিড লাইনে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুত্ বিপর্যয় হয়। রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, তালতলা, খিলগাঁও, বাসাবো, গোড়ান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পুরানো ঢাকার বিভিন্ন স্থান, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মালিবাগ, মগবাজার, ধানমন্ডি, শ্যামলী, মিরপুর, গাবতলী, কাওরানবাজার, সিদ্ধেশ্বরী, বেইলীরোড, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেখেরটেক, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মধুবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিদ্যুত্ বিভ্রাট হয়েছে। কোথাও কোথাও কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুত্ ছিল। বিকল্প লাইনে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়েছে। আবার কিছু এলাকায় একেবারেই বিদ্যুত্ ছিল না। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুত্ না থাকায় নগরীর মানুষ দুর্বিসহ দিন কাটিয়েছে গতকাল। বিদ্যুত্ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। আঞ্চলিক পানির পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন দেখা গেছে। ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উলন গ্রিডে বিস্ফোরণ হয়। এর পরপরই খিলগাঁও তালতাল ও খিলগাঁও ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। দুপুর ১টা ৫মিনিটে তালতলা ব্রেকার ঠিক করা হলেও খিলগাঁও ব্রেকার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠিক করা যায়নি। ডিপিডিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উলন গ্রিডে বিস্ফোরণের পর পরই ধানমন্ডি ১৩২ কেভি সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সচিবালয়সহ আশপাশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুত্ চলে যায়। পরে তালতলা ব্রেকার ঠিক করে একটার দিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুত্ দেয়া হয়। কিন্তু খিলগাঁও ব্রেকার ঠিক না হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজধানীতে লোডশেডিং থাকবে। তলাতলা ব্রেকার যত দ্রুত ঠিক করা গেছে খিলগাঁওয়েরটা এত তাড়াতাড়ি ঠিক করা যাবে না। রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে ধানমন্ডি গ্রিডের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড ট্রান্সফরমার (প্রতিটি ৫০/৭৫ এমভিএ) ৩টির মধ্যে ১টি ট্রান্সফরমার বিকল রয়েছে। যার মেরামত কাজ চলছে। একই সাথে সাতমসজিদ ৩৩/১১ উপকেন্দে র ২টি উত্স (আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল) এর মধ্যে ১টির শ্যামলী রিং রোড অংশে বারবার ত্রুটি দেখা দেয়ায় ক্যাবলটি বারবার মেরামতের প্রয়োজন হচ্ছে। এই দুইটি মেরামত করতে পুরো জুন মাস লেগে যাবে। এর ফলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।