মানবতাবিরোধী অপরাধ
আশরাফ-মুঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ২৪ জুন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫২
একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা সে বিষয়ে আদেশের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম ও সাহিদুর রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আবদুস শুকুর খান ও সালমা হাই। শুনানিতে মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করে শুনানি করে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চৌধুরী মুঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল পলাতক চৌধুরী মুঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ১৬টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে বলা হয়, একাত্তরের ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী নিধনের যে নীলনকশা হয়েছিল, ঘাতক আলবদর বাহিনী তা বাস্তবায়ন করে। মুঈনুদ্দীন ছিলেন আলবদর বাহিনীর ‘অপারেশন ইনচার্জ’, আর আশরাফুজ্জামান ছিলেন ‘চিফ এক্সিকিউটর’। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যে একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রয়েছেন।
ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি ১ জুলাই: এদিকে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের নায়েবে আমীর একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। এছাড়া আগামী ২২ জুন শনিবার ইউসুফের সঙ্গে তার দুই আইনজীবীকে কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পর ইউসুফকে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গত ১ মে গ্রেফতার করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। ইউসুফের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে ৭০০ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, ২শ’ হিন্দু লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ৩শ’ বাড়ি লুণ্ঠন এবং ৪শ’ দোকান লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটর হূষিকেষ সাহা ১৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।