ফলাফলের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
চার সিটি কর্পোরেশনে বিরোধী দল সমর্থিত নবনির্বাচিত মেয়রদের অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্থানীয় সরকার একটি নির্দলীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। তবে এটাকে সতর্কবার্তা হিসেবে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে ভুল সংশোধনের পথ খুঁজতে চায় ক্ষমতাসীন এ জোট। সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির যৌক্তিকতা নেই বলেও ১৪ দল মনে করে। অবাধ সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মহাজোট সরকারের বিজয় হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ জানান।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ইত্তেফাককে জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্থানীয়সহ জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। যারা অতীতে মাগুরা-তেজগাঁ মার্কা নির্বাচন করেছিল তাদের এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু তারপরেও ভাল কাজের স্বীকৃতি দেয়া হলো না। ভাল কাজের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে কেউ ভাল কাজ করতে উত্সাহ পাবে না।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানান, সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে এটাই সরকারের সফলতা। কে হারলো, কে জিতলো সেটা বড় করে দেখার বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চার সিটি কর্পোরেশনে নবনির্বাচিত বিরোধী দল সমর্থিত মেয়রদের অভিনন্দন জানাই। যারা পরাজিত হয়েছে তাদের জন্য এটা ‘ওয়েক-আপ কল’। আগামী নির্বাচনে এর রেশ থাকবে এবং সতর্কবার্তা হবে। এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে ভুল সংশোধনের পথ খুঁজতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই নির্বাচন সরকারের জনপ্রিয়তা হারানোর প্রমাণ বলে মনে করেন কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমেরিকার নির্বাচনের চার মাস আগে ওবামার জনপ্রিয়তা কম ছিলো, আমাদের এখনো পাঁচ মাস সময় রয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নজির স্থাপিত হয়েছে।
জোটের অন্যতম শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, গণতন্ত্রের রাজনীতিতে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত। আবারো প্রমাণিত হলো বর্তমান সরকারের অধীনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। এতে করে বিএনপির ধারণা ভ্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে মহাজোট সরকারের পরাজয়কে আমি সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা বলবো না, তবে এটা সরকারের জন্য সতর্কবাণী।
জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ জানান, দায়িত্ব পালনের সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রার্থীদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এ জন্য তাদের পরাজয় হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় এর ফলাফলের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। জাতীয় নির্বাচনে এর কোন প্রভাব পড়বে না। আগামী দিনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সেটা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির কোন যৌক্তিকতা নেই।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, সিটি নির্বাচনের ফলাফল আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য সতর্কবার্তা। গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম জানান, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ নির্বাচনের প্রভাব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকার এবং ১৪ দলীয় জোটকে আরো শক্তিশালী করতে জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে।