পদ্মায় পরোক্ষ সহায়তার আশ্বাস দিল বিশ্বব্যাংক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৯
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়োহানেস জাট বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। সরাসরি পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করা না হলেও পরোক্ষভাবে অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর সমপরিমাণ অর্থ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে করে পরোক্ষভাবে পদ্মা সেতু প্রকল্প লাভবান হতে পারে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল রবিবার বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিগুলোকেই বড় করে দেখছে বিশ্বব্যাংক। জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, ইউরোপ আমেরিকাসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর আর্থিক সংকট কমে আসা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল থাকা এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকার কারণে আসছে অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবে সামপ্রতিক সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ ইমেজ সংকটে পড়েছে। এর ফলে রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলেও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, ঘাটতি বাজেটের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) গুণগত বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বিশেষজ্ঞ প্যানেল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের পরোক্ষ সহায়তার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে এমনটি নয়, বিশ্বের প্রায় দেশেই দুর্নীতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অপর প্রশ্নের জবাবে জোহানেস জাট বলেন, তাজরীন গার্মেন্টস এ আগুন, রানা প্লাজা ধসে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ ইমেজ সংকটে পড়েছে। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য দেশের দিতে ঝুঁকতে পারে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারসহ বেসরকারি খাতেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তবে সস্তা শ্রমের কারণে এখনও বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য উত্তম গন্তব্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্বব্যাংকের বাজেট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবার জন্য প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্যমাত্রা অযৌক্তিক না হলেও বিনিয়োগ, রফতানিসহ অন্যান্য আর্থিক সূচকের সাথে সঙ্গতিহীন। দেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে আগামী অর্থবছর নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। তবে বর্তমান প্রবৃদ্ধি স্বাস্থ্যকর বলে বিশ্বব্যাংক মনে করে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর জন্য বিনিয়োগ কাঠামোর দুর্বলতাকে দায়ী করেন তিনি। গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। মুদ্রা বিনিময় হার নমনীয় রাখতে হবে। একই সঙ্গে সুদের হারও নমনীয় রাখতে হবে। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। এছাড়া মুদ্রানীতি বাস্তবায়নেও দুর্বলতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।