ইইউ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে আগ্রহী
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৯
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো বাংলাদেশের পোশাকখাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ড এর বৈদেশিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মিস লিলিয়েন প্লাউম। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপিসহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধি ও নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাচ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পোশাকখাতের সঙ্গে আমরা সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে এ খাতের অবদান রয়েছে। তাই ডাচ বা ওলন্দাজ সরকার এ খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চায়। বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া বন্ধ করা কোন সমাধান নয় উল্লেখ করে লিলিয়েন প্লাউম বলেন, শ্রমিক অধিকার ও কর্ম পরিবেশ রক্ষায় ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপযুক্ত দাম দিয়ে পোশাক নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একইসাথে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্যও ডাচ সরকার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, রাতারাতি পরিবেশের উন্নতি হবে না। এজন্য অনেকদিন ধরে কাজ করতে হবে। তবে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে এর সমাধান সম্ভব।ওলন্দাজ মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন ও ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে কথা হয়েছে। তারা এ কাজে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। কানাডাও সহায়তা করতে প্রস্তুত। আমরা একটি ফোরাম গঠন করে কাজ করবো। কারখানার কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষায় কিভাবে ও কোন্ খাতে কাজ করতে হবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অ্যাকশন প্ল্যান ঠিক করা হবে। লিলিয়েন বলেন, গত শুক্রবার ইইউ মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে জেনেভায় আইএলও অফিসে একটি বৈঠক হবে। তাছাড়া ওলন্দাজ পোশাক কারখানাগুলোর সাথেও অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে কথা হয়েছে।
জিএম কাদের বলেন, ইইউ দেশগুলোকে সাথে নিয়ে নেদারল্যান্ড কাজ করতে চায়। এজন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যেন বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ড ও ইইউ দেশগুলো মিলে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক অধিকার ও কর্মপরিবেশ রক্ষায় কাজ করা যায়।
পোশাক কারখানার পরিবেশ রক্ষার সহায়তায় আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সফররত ডাচ মন্ত্রী বলেন, ডাচ সরকার ও বেসরকারি খাত তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ৯ মিলিয়ন ইউরো দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া অন্য দেশগুলোও সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। সবাই মিলেই এ কাজ করা হবে।
ইইউ বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওলন্দাজ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার শ্রমিক অধিকার ও কর্ম পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এ বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।
আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, আমেরিকা আমাদের কাছে যা যা জানতে চেয়েছে, আমরা জানিয়েছি। এখন বিষয়টি আমেরিকার হাতে রয়েছে। তবে আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী। শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও কর্ম পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এটা জিএসপি’র প্রশ্ন নয়, দায়িত্বের তাগিদেই এ কাজ করতে হবে। তাই দৃঢ়তার সাথে সরকার কাজ করছে।
ওলন্দাজ মন্ত্রী দুইদিনের সফরে গতকাল রবিবার বাংলাদেশে এসেছেন। রানা প্লাজার ঘটনাস্থল, বিভিন্ন পোশাক কারখানা এবং সিআরপি তার পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সিআরপিতে তিনি ২৬ হাজার ইউরো সহায়তা হিসাবে দেবেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও সাক্ষাত্ করার কথা রয়েছে।