খেলোয়াড়দের দাবি শুনবে না ক্লাবগুলো

টেলিফোনের ওপাশ থেকে বেশ রাগান্বিত স্বরেই কথাগুলো বলছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের চেয়ারম্যান ও ক্লাব সমিতির সভাপতি মঞ্জু কাদের। গতকাল বিকেলে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের (কোয়াব) লিগ বর্জনের ঘোষণা শোনার পর থেকে তিনি অস্বস্তিতে ভুগছেন। ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে থাকলেও কাল তিনি ইত্তেফাককে সেই অস্বস্তি থেকেই বললেন, ‘যদি ক্রিকেটাররা না খেলতে চায় তবে আমার ক্লাবে আর তারা কখনোই খেলতে পারবে না।’ গ্রেডিং পদ্ধতি ও পারিশ্রমিকের এই অংক বাতিল এবং পুরানো পদ্ধতিতে লিগ আয়োজনের দাবি জানিয়েছে কোয়াব। কোয়াবের এই দাবি অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করেছেন ক্লাব সমিতির সভাপতি, ‘কোয়াব কে? কোয়াব কি খেলোয়াড়দের পয়সা দেয়? আমাদের কাছে কালো টাকা নেই। আমরা ভিক্ষা করে ক্লাব চালাই। তারা যা বলবে আমরা শুনতে পারি নাকি?’ খেলোয়াড়দের এমন সিদ্ধান্তে প্রিমিয়ার লিগই পড়ে গেল অনিশ্চয়তার মধ্যে। এই অনিশ্চয়তা কিভাবে কাটবে তার উত্তরণের পথ খুঁজছেন মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, ‘খেলোয়াড়রা না খেললে লিগ অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে। ওরা না খেললে আমাদের তো কিছু করার নেই।’ গত মার্চে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের না পাওয়ায় ক্লাবগুলো খেলতে আপত্তি জানায়। অনেক জল ঘোলা করে যখন লিগ শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তখনি কোয়াবের এ ঘোষণা। অনেকে এটাকে কোয়াবের সাথে বিসিবির সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছে। কিন্তু বিসিবির সদস্য হিসাবে লোকমান হোসেন বললেন ভিন্ন কথা, ‘নানান সমস্যার কারণে ক্লাবগুলো খেলতে চায়নি। আমরাই তাদের রাজি করিয়েছি। তাদের সাথে সিসিডিএমের আলোচনাও হয়েছে। আমি এটাকে সমন্বয়হীনতা বলবো না।’ তবে ক্লাব সমিতির সভাপতি এর সমস্ত দায় চাপালেন কোয়াবের উপর। খেলোয়াড়দের দোষারোপ করে তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় যদি জাতীয় দলে এক লাখ টাকা পায়; সে তুলনায় আমরা ডি বা সি গ্রেডে যে অর্থ দিতে চাচ্ছি সেটা কি কম? যারা ক্রিকেটকে কলংকিত করেছে, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত তারাই টাকার জন্য গলাবাজি করছে।’ জানা গেছে, আজ কোয়াবের সাথে সমঝোতার আলোচনা করবে বিসিবি। এরপর ক্লাবগুলোর সাথেও আজ বসার কথা রয়েছে তাদের।