জামায়াত-হেফাজত নিষিদ্ধ না হলে জাতীয় নির্বাচনে করুণ পরিণতি
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৩, ২২:৩৩
‘জামায়াত-হেফাজত নিষিদ্ধ করা না হলে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আরো করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে। এমনকি যেসব ঘাতকের বিচার এবং রায় কার্যকর করার অপেক্ষায় রয়েছে, একদিন তারাই হয়তো পাল্টা বিচার করবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের। স্থানীয় সময় রবিবার বিকালে নিউইয়র্কে ‘ইউএস কমিটি ফর সেক্যুলার ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সমাবেশে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র সফররত সাংবাদিক ও লেখক কামাল লোহানী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং একাত্তরের মতই শ্লোগানে সোচ্চার হতে হবে। একাত্তরে ওরা মানুষ হত্যা করেছে, আসুন আমরা পশু হত্যা করি। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতি পুঁজি করে ওরা বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম, চারণকবি বেলাল বেগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কমান্ডার নূরন্নবী, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, আব্দুস সামাদ আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি শিতাংশু গুহ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, ফাহিম রেজানূর। সমাবেশের সঞ্চালক ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব জাকারিয়া চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় না হলে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলা হবে, মুক্তিযোদ্ধারা আর দেশে থাকতে পারবে না। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে বক্তারা বলেন, এই নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।
সমাবেশে গণজাগরণমঞ্চের কবিতা আবৃত্তি করেন জিএইচ আরজু, মুমু আনসারী এবং শিবলী সাদেক।