নিজ অর্থায়নে পদ্মাসেতুর বিরোধীরা বিশ্বব্যাংকের দালাল :বারকাত

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করলে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে যারা সমালোচনা করছেন তাদেরকে বিশ্বব্যাংকের ‘দালাল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতির আকার ও যে সম্পদ রয়েছে তাতে নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে অন্তত দু’টি পদ্মা সেতু করা সম্ভব। বিশ্বব্যাংকও বলছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা যেতে পারে। অথচ কেউ কেউ এর সমালোচনা করছেন। গতকাল অর্থনীতি সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাজেট প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। এক প্রশ্নের জবাবে ড. আবুল বারকাত বলেন, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দেয়া সমর্থনযোগ্য নয়। তদুপরি বহুবার সুযোগ দেয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করা হয়নি। তবে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া ভাল ফর্দ নয়। তিনি বলেন, যেহেতু কালো টাকার আকার অনেক বড় এবং উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগের চাহিদাও রয়েছে তাই শক্ত শর্তে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ শিল্প ও অবকাঠামো খাতে দেয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারেন এবং একটি কমিশনও গঠন করা যেতে পারে। বাজেটে প্রস্তাবিত জিডিপির (মোট দেশজ উত্পাদন) প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আবুল বারকাত বলেন, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির হার অর্জনযোগ্য। তবে এজন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ, অনুদান ও ঋণ বাড়াতে হবে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা ও সুদ হার কমাতে হবে। দুই অঙ্কের সুদ হার দিয়ে শিল্পায়ন সম্ভব নয়। ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি। এছাড়া বাজেট ঘাটতি কমাতে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় কমাতে হবে। বিশেষ করে জনপ্রশাসনের ব্যয় কমানো, অপচয় কমানো এবং আয়কর আদায় বাড়াতে হবে। বছরে মাত্র ৪৬ জন ব্যক্তি ১ কোটি টাকার উপরে আয়কর প্রদান করেন। অথচ আমাদের হিসাবে এদেশে কমপক্ষে ৫০ হাজার জন রয়েছেন যারা ১ কোটি টাকার উপরে আয়কর দেয়ার যোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীলতা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঝারি ও বড় ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন।