সন্ত্রাসের মাধ্যমে উত্থান, সন্ত্রাসীদের হাতে মৃত্যু
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৩, ২৩:০৯
ছিলেন চরমপন্থি দলের ক্যাডার। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতার বলয় তৈরি করে হয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে যার উত্থান ঘটেছিল গত রবিবার রাতে সেই সন্ত্রাসীদের হাতেই মৃত্যু হল তার।
ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নিহত চেয়ারম্যান রুহুল আমিন আশির দশকে এইচএসসিতে পড়ার সময় চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। পার্শ্ববর্তী ডাউটি গ্রামের চরমপন্থি নেতা আব্দুর রশিদের হন সহযোগী। একদিন সুযোগ বুঝে রশিদের একটি অস্ত্র নিয়ে সটকে পড়েন রুহুল। গড়েন নিজের নামে একটি বাহিনী। তার ভয়ে গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় তার বিরোধী দলের লোকজন কোনও শব্দ করতে পারত না। চরমপন্থি ক্যাডার হিসাবে দ্রুত তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে হয়ে যান শীর্ষ চরমপন্থি নেতা রুহুল।
নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মেম্বর ও রুহুলের গ্রাম বাগুটিয়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ১৯৮৮ সালের দিকে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি মোশারফ মেম্বরকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রুহুল জেলে যান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কিছুদিনের জন্য ঢাকা চলে যান। এরপর এলাকায় ফিরে সর্বহারা দলের আঞ্চলিক নেতা হন।
১৯৯৪ সালের দিকে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডার শহীদুল, লুত্ফর, আনন্দ দাস ও রেজাকে সর্বহারা পার্টির লোকেরা নলডাঙ্গা এলাকা থেকে অপহরণ করে গুম করে। এ ঘটনায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে রুহুল বাহিনীকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর তেঁতুলতলা বাজারে কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে বিধান ও রুহুলের নেতৃত্বে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়। সর্বহারা পার্টি এ অঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে মীর ইলিয়াস হোসেন দিলিপ শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন নামে নতুন একটি সংগঠন গঠন করলে এর সশস্ত্র শাখা গণমুক্তি ফৌজে যোগ দেন রুহুল। ১৯৯৯ সালে সরকার ঘোষিত আত্মসমর্পণে সাড়া দেন রুহুল। ২০০০ সালের দিকে তাকে ফের পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাস চারেক আগে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। এলাকায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত হন। গত ইউপি নির্বাচনে রুহুল আমিন নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ে। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে দু’বার হত্যা চেষ্টা করা হয়। চেয়ারম্যান হওয়ার পরও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেন তিনি। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, রেকর্ড থেকে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ১৩টি হত্যা মামলা হয়েছিল। সাক্ষী প্রমাণের অভাবে তিনি মামলা থেকে ছাড়া পেয়ে যান।
রবিউল নামে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে বর্তমানে রুহুলের নামে একটি মামলা আছে।