পাড়ার চায়ের দোকানে রোজ আড্ডা দিত সুমন, মিন্টু, সোহাগ ও রিংকু। ভালো বন্ধুুত্ব ছিল তাদের। সন্ধ্যার পর টিউশনি শেষে জমপেশ আড্ডা দিত তারা। এখন সুমন ছাড়া কারোরই দেখা মিলে না। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। মন্টু এখন আর্মিতে, রিংকু মস্ত বড় অভিনেতা আর সোহাগ ডিরেক্টর।
অতীতের কথাগুলো মনে করে সুমন আজ খুব হতাশা।
সবাই সবার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ল, কেবল সে-ই পারল না। নিজের ভুলগুলোকে তাই বারবার দোষ দিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে পাশের বাড়ির মতি চাচাকেও।
প্রেম করে ফেঁসে গেছে সে। সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতে পারে না, আড্ডা দিতে পারে না। প্রেমিকার কেয়ারিংয়ের ঠেলায় আজ তার স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত। সব দোষ এই মতি চাচার। তিনি ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ডের বিজনেস শুরু করেছিলেন বলেই কানেকশন নিয়ে ফেসবুক চালাতে গিয়েই প্রেমে পড়েছে সে। মতি চাচার কারণেই মন্টু আজ PUBG-তে সোলজার হয়ে দিনরাত যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। মতি চাচার কারণেই রিংকু আজ অভিনেতা। টিকটকে সে অনেক ভিডিও বানায়। আর সোহাগ হয়েছে ইউটিউবার।
সন্ধ্যায় সেই চায়ের দোকানে এখন আর কেউ আসে না। যদিও অনলাইনে সবাই থাকে, যে যার মতো ব্যস্ত। দিনভর সবাই নেট চালায় আর মাস শেষে মতিচাচা টাকা গোনে।