পেনিসিলিন কি ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে

মারাত্মক যৌনবাহিত রোগ গনরিয়া এখন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশার কারণে এই ভয়াবহ রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ গনরিয়া রোগ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, জীবাণু বিধ্বংসী নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী এন্টিবায়োটিকও এখন আর রোগ সারাতে পারছে না। ব্যাকটেরিয়াবাহিত এ রোগ থেকে প্রদাহ সৃষ্টি, প্রজনন ক্ষমতা বিনষ্ট হওয়া, মহিলাদের গর্ভস্থ সন্তানের জটিলতা এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। আক্রান্ত মায়ের যথাযথ চিকিত্সা না হলে নবজাতকের শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে চোখের সংক্রমণ হতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ড. মানজুলা লুস্টি নরসীমার অভিমত হচ্ছে প্রায় সব ধরনের এন্টিবায়োটিক গনরিয়া নিরাময়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। অর্থাত্ নামি-দামি এন্টিবায়োটিকে আর গনরিয়ার জীবাণু ধ্বংস হচ্ছে না। ডা. নরসীমা আরও উল্লেখ করেছেন এতদিন যৌনরোগ গনরিয়ার চিকিত্সার ক্ষেত্রে সেফোলোস্পরিনস গ্রুপের ড্রাগকে শেষ চিকিত্সা হিসেবে ধরা হতো। অথচ এসব ওষুধও আর কার্যকর থাকছে না। ৫০ এর দশকে পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হবার পর ক্রমাগত এন্টিবায়োটিকের জেনারেশন পরিবর্তন হচ্ছে। অথচ শুরুতে এই পেনিসিলিনের জীবাণু ধ্বংসের অপরিমেয় ক্ষমতা ছিলো। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন লোক বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়। তন্মধ্যে ১০৬ মিলিয়নই হচ্ছে গনরিয়ার রোগী। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেফোলোস্পরিন রেজিস্ট্যান্ট সনাক্ত হয় প্রথমে জাপানে। পরবর্তীতে ব্রিটেন, হংকং ও নরওয়েতে। এদিকে ড. লুস্টি নরসীমার মতে এই ভয়াবহ গনরিয়া নামক যৌন রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা পরিহার করতে হবে এবং প্রটেকশন নিতে হবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে। লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ