প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:২৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার সংসদে বলিয়াছেন, ‘অসাংবিধানিক সরকার চাহিলে দেশে নির্বাচনই হইবে না।’ সদ্যসমাপ্ত ৪টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি’র বিপুল বিজয়ের প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আর কোন অসাংবিধানিক কাউকে (সরকার) আনার চেষ্টা করবেন না। তাতে কারও লাভ হবে না। নির্বাচনই হবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সূত্র ধরিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম বলিয়াছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। তাঁহার বক্তব্যে স্বৈরাচারী ভাষা দেখিতে পাওয়া যাইতেছে’ ইত্যাদি। সন্দেহ নাই যে, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গেই এই সকল কথা বলিয়াছেন। তাঁহার এই বক্তব্যের মধ্যে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও যে রহিয়াছে উহা নিশ্চয়ই কাহারও বুঝিতে অসুবিধা হইবার কথা নহে। দেশে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনই সকলের কাম্য। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে তিনি প্রতিবন্ধকরূপে গণ্য করিতেছেন এবং সুস্পষ্ট ভাষায় জানাইয়া দিতেছেন যে, এ বিষয়ে বেশি সোচ্চার হইলে কাহারও লাভ হইবে না বরং দেশে ‘নির্বাচনই হইবে না।’
দেশে যদি নির্বাচন না হয় তাহা হইলে সামগ্রিকভাবে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে তাহাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হইতে পারে এমনটাই কিন্তু জনমনের আশঙ্কা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার রদবদল একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক বা দলীয় সরকারের কোনটির অধীনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হইবে উহা লইয়া ব্যাপক শঙ্কা-সংশয় দেশের মানুষের মনে ঘুরপাক খাইতেছে। আর এই ব্যাপারে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজিয়া বাহির করার চেষ্টা আদৌ সফল হইবে কিনা আর না হইলে গোটা পরিস্থিতি কিরূপ পরিগ্রহ করে উহাই দেখার বিষয় এখন! সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধী দলের ব্যাপক সাফল্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে যুক্তিগ্রাহ্য করিয়া তুলিয়াছে এমন দাবি প্রধানমন্ত্রী অনেকটা সঙ্গত কারণেই করিতে পারেন বৈ কী! তবে তিনি যখন বলেন যে, অন্য কোন অসাংবিধানিক কাহাকেও আনার চেষ্টা করিলে দেশে নির্বাচনই হইবে না তখন দুশ্চিন্তার কারণ ঘটে নিশ্চয়ই। অর্থাত্, অসাংবিধানিক কেহ আসিলে যে মহা সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হইবে এই আগাম বার্তাটুকুও তো সম্ভবতঃ প্রধানমন্ত্রী তাঁহার ঐ বক্তব্যের মধ্য দিয়া তুলিয়া ধরিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রী কোন পরিস্থিতিকে মনে রাখিয়া এবং কি ধরনের তথ্যের উপর ভিত্তি করিয়া এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন তাহা তিনিই ভাল জানেন। তবে তাঁহার এই আগাম হুঁশিয়ারিকে খাটো করিয়া দেখিবার কোন অবকাশ নাই। দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন কোন কথা বলেন তখন উহাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিয়া উপায় থাকে কী! বিশেষতঃ তিনি যখন নির্বাচন বিষয়ে শঙ্কার কথা তুলিয়া ধরেন তখন অজানা আশঙ্কায় সকলের বক্ষ দুরু দুরু করিলে কাহাকেও দোষ দেওয়া যাইবে না। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হইল দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন, যাহাতে কিনা সকল পক্ষই অংশগ্রহণ করিবে। গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখিতে ইহারতো কোন বিকল্পও নাই। ফলে এই শুভ বুদ্ধির উন্মেষ সংশ্লিষ্ট মহলগুলির মধ্যে ঘটিবে ইহাই প্রত্যাশিত। গণতান্ত্রিক ধারার পরিবর্তে অন্য কোন কিছু ঘটিলে কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নহে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠানই সেক্ষেত্রে বিপন্ন হইয়া পড়িবে, ইহা কাহাকেও বুঝাইয়া বলিবার প্রয়োজন নাই।